এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বৈশ্বিক স্মার্টফোনের বাজারে নিজের শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ণ রেখেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথম তিন মাসে বিশ্ববাজারের ২১ শতাংশই ছিল আইফোনের দখলে। গত বছরের একই সময়ে এই হিস্যা ছিল ১৯ শতাংশ। অ্যাপলের ঠিক পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরীয় ব্র্যান্ড স্যামসাং।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের সরবরাহ প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। তবে বাজারের সামগ্রিক মন্দাভাবের মধ্যেও অ্যাপল তাদের সরবরাহ ৫ শতাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
২০২৫ সালে সরবরাহ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকেই অ্যাপল বিশ্বের এক নম্বর স্মার্টফোন সরবরাহকারী হিসেবে নিজের অবস্থান মজবুত করেছে। বর্তমানে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের নেতৃত্ব মূলত আইফোনের হাতেই থাকছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্র্যান্ড স্যামসাং ২০ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত বছরের তুলনায় ব্র্যান্ডটির বাজার হিস্যা স্থিতিশীল থাকলেও চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের স্মার্টফোন সরবরাহ কমেছে ৬ শতাংশ। চীনা ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে শাওমির অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। তাদের বাজার হিস্যা ১ শতাংশ কমে ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং সরবরাহ কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। শীর্ষ পাঁচ ব্র্যান্ডের মধ্যে শাওমির সরবরাহই সবচেয়ে বেশি কমেছে। চীনের অন্য দুই ব্র্যান্ড অপ্পো ও ভিভোর বাজার হিস্যা যথাক্রমে ১১ ও ৮ শতাংশ।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজার বর্তমানে বেশ চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে ফোনে ব্যবহৃত মেমোরি চিপের (র্যাম ও স্টোরেজ) তীব্র ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মেমোরি নির্মাতারা বর্তমানে স্মার্টফোনের চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টারকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভোক্তারা নতুন ডিভাইস কেনার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছেন।
জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শিল্পী জৈন জানান, সরবরাহ সীমিত হওয়ার পাশাপাশি লজিস্টিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ করে কম ও মধ্যম দামের স্মার্টফোনগুলো বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। অ্যাপলের মতো প্রিমিয়াম ডিভাইসের নির্মাতারা স্থিতিশীল থাকলেও ভলিউমনির্ভর চীনা ব্র্যান্ডগুলো বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। নতুন ডিভাইসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে বর্তমানে রিফার্বিশড বা সংস্কার করা স্মার্টফোনের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রিমিয়াম সেগমেন্টে অ্যাপলের একচ্ছত্র আধিপত্যই তাদের এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শীর্ষে থাকতে সাহায্য করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন