মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

চাঁদে ঐতিহাসিক মিশন শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১০:১৪ এএম

চাঁদে ঐতিহাসিক মিশন শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী

পৃথিবীতে ফিরল ওরিয়ন ক্যাপসুল

নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের অধীনে চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন চার নভোচারী। ৫০ বছরের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো মানববাহী এই চন্দ্র মিশন সফল করার মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসা। স্থানীয় সময় শুক্রবার প্রশান্ত মহাসাগরের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের কাছে নিরাপদ অবতরণ করেছে তাদের বহনকারী ওরিয়ন ক্যাপসুল। 

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চগতির পুনঃপ্রবেশের পর বিশাল প্যারাসুটের সাহায্যে ক্যাপসুলটি সাগরে নামে। অবতরণের সাথে সাথেই উদ্ধারকারী দল তাদের সংগ্রহ করে এবং দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করে।

শনিবার সকালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের তথ্য জানানো হয়েছে। এই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন অভিজ্ঞ নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কখ এবং জেরেমি হ্যানসেন। 

তারা ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ১০ দিনের এক রোমাঞ্চকর যাত্রায় মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। মিশন চলাকালে নভোচারীরা চাঁদের অন্ধকার বা অদৃশ্য পাশ দিয়ে প্রদক্ষিণ করেন। উল্লেখ্য যে ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এটিই ছিল মানুষের প্রথম চন্দ্রাভিযান। এই সফরের মাধ্যমে তারা মানব ইতিহাসে মহাকাশে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রম করার বিরল রেকর্ড গড়েন।

আর্টেমিস-২ মিশনটি মূলত ভবিষ্যতে চাঁদে পুনরায় মানুষের অবতরণ নিশ্চিত করার একটি বড় প্রস্তুতি। এই অভিযানের মাধ্যমে ওরিয়ন ক্যাপসুলের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা, হিট শিল্ড এবং ন্যাভিগেশন সিস্টেমের কার্যকারিতা কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। বিশেষ করে আর্টেমিস-৪ মিশনের মতো ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোর জন্য এই তথ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীতে ফেরার সময় বায়ুমণ্ডলের তীব্র ঘর্ষণে সৃষ্ট তাপের কারণে স্বল্প সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে ক্যাপসুলটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে এই সময়টিকে অন্যতম চ্যালেঞ্জিং মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই অভিযানে বেশ কয়েকটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে চাঁদ প্রদক্ষিণ করেছেন। অন্যদিকে ক্রিস্টিনা কখ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-আমেরিকান হিসেবে এই অনন্য গৌরব অর্জন করেছেন। মিশন চলাকালে নভোচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠের নিখুঁত বর্ণনা দেওয়ার পাশাপাশি মহাকাশ থেকে সূর্যগ্রহণ এবং উল্কাপাতের মতো দুর্লভ মহাজাগতিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। 

মিশন কমান্ডার রিড উইজম্যান এক বিবৃতিতে বলেন যে এই যাত্রা যেন পৃথিবীর মানুষকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও থামিয়ে দেয় এবং মনে করিয়ে দেয় আমাদের এই গ্রহটি কতটা সুন্দর ও বিশেষ। বর্তমানে নভোচারীরা নিবিড় চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং শিগগিরই তাদের টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত জনসন স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে।