বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাদেশে কেন অফিস খুলছে না গুগল-ফেসবুক

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

আগস্ট ১৪, ২০২৬, ১২:৪৪ এএম

বাংলাদেশে কেন অফিস খুলছে না গুগল-ফেসবুক

Ai - ছবি

১০ কোটির বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর দেশ বাংলাদেশ। বিপুল জনপ্রিয়তা ও বিশাল আয়ের বাজার হওয়া সত্ত্বেও বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল ও ফেসবুকের কোনো নিজস্ব কার্যালয় এখানে নেই। জবাবদিহিতা ও দ্রুত তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে এই শূন্যতা প্রশাসনের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।বর্তমানে দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ। একই সাথে ইউটিউব ব্যবহারকারীর সংখ্যাও ৭ কোটির কাছাকাছি অবস্থান করছে। 

প্রযুক্তি ও বাজার বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করছে এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো। বিপুল সংখ্যক গ্রাহক ও লাভজনক বাজার থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি দেশে গড়ে ওঠেনি। বিজ্ঞাপনদাতারা স্থানীয় অংশীদারদের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করছেন।কিন্তু মূল সংকট তৈরি হচ্ছে আইনি ক্ষেত্রে।

অফিস না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার, গুজব বা সাইবার অপরাধের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্তের প্রয়োজনে কোনো তথ্য চাইলে তা পেতে অনেক সময় দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পার হতে হয়। স্থানীয় কোনো ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধগুলোও সরাসরি সমাধান না হয়ে আঞ্চলিক কার্যালয় ঘুরে আসে। এতে করে সংবেদনশীল সময়ে গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার এবং সাধারণ মানুষের ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সুরক্ষানীতি ও মেটা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে স্পষ্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সরাসরি অফিস খোলার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা তাদের নেই। আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানেই তারা সন্তুষ্ট। বর্তমানে সিঙ্গাপুর কার্যালয় থেকে এশিয়া অঞ্চলের মূল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বেসরকারি সংস্থা, অনুমোদিত সেলস পার্টনার এবং একজন নির্দিষ্ট পাবলিক পলিসি ম্যানেজারের মাধ্যমে তারা দেশের ভেতরের কার্যক্রম সমন্বয় করে থাকে। 

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করেন, বৈদেশিক কোম্পানির ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় নীতির ধরন এবং একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখার সুবিধার্থেই তারা সরাসরি কার্যালয় স্থাপনে অনীহা দেখাচ্ছে।সরকারের সর্বশেষ অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতেও ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কনটেন্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা হয়েছে। তথ্য সরবরাহ প্রক্রিয়া সহজ করতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে মেটা কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।