সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১০:২৫ এএম
প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বদলে যাচ্ছে প্রচলিত চাকরির বাজার। কিছু শিল্পে কাজের পরিধি এত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে যে দক্ষ কর্মীর চাহিদা জোগানের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার প্রভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্রুত বর্ধনশীল হতে যাচ্ছে প্রধান সাতটি শিল্প খাত। কর্মক্ষেত্রে পেশা পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করা কিংবা ভবিষ্যৎ চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য এই খাতগুলো সবচেয়ে বড় সুযোগ তৈরি করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফিনটেক, সবুজ জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, সাইবার নিরাপত্তা, লজিস্টিকস ও ডেটা সায়েন্স ২০৩০ সালের মধ্যে দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার ও স্বয়ংক্রিয়তার কারণে এসব খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। তথ্য বা ডেটা সম্পর্কে কার্যকর ধারণা এখন প্রায় সব খাতেই অপরিহার্য হয়ে উঠছে। ফিনটেক, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থাপনা—দ্রুত বর্ধনশীল প্রতিটি খাতেই এটি একটি মৌলিক দক্ষতা। দীর্ঘ প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াও স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারিক কোর্স ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।
প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাপ্লিকেশনসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফটওয়্যার বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৬৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে জেনারেটিভ এআই। ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযুক্তি বাড়ার কারণে এমন পেশাজীবীদের চাহিদা তৈরি হয়েছে, যারা মডেলের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজে এর ফলাফল বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। এই খাতে কাজের জন্য উন্নত গবেষণার চেয়ে মডেল পরিচালনা, ডেটার মান বজায় রাখা, প্রম্পট ডিজাইন এবং বিভিন্ন বিভাগের সাথে সমন্বয়ের মতো প্রায়োগিক দক্ষতাই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
ফিনটেক বা আর্থিক প্রযুক্তি খাতে এমবেডেড ফাইন্যান্সের বিস্তার নতুন কর্মসংস্থানের বড় উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ-আর্থিক প্ল্যাটফর্মে আর্থিক সেবা, ঋণ ও লেনদেন ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ার ফলে পেমেন্ট পরিচালনা, মার্চেন্ট অনবোর্ডিং এবং জালিয়াতি শনাক্তকরণের মতো পদে নিয়োগ বাড়ছে। গ্রাহক পরিচিতি যাচাই (কেওয়াইসি), আর্থিক হিসাব সমন্বয়, লেনদেনের সুরক্ষা পর্যবেক্ষণ এবং ডেটা বিশ্লেষণের সক্ষমতা এই খাতের প্রাথমিক চাহিদা।
পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা দুই পর্যায়েই দ্রুত নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। সৌর প্যানেল স্থাপন, উৎপাদন লাইন পর্যবেক্ষণ এবং বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিধি মেনে মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তিবিদরা কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিবিদদের বর্তমান গড় বার্ষিক আয় প্রায় ৫৯ হাজার ৪০৫ ডলার, যা ক্রমেই বাড়ছে। কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি জ্বালানি কৌশল নির্ধারণ, অবকাঠামোগত সংযুক্তি এবং আইনি কমপ্লায়েন্স পরিচালনার জন্য ব্যবস্থাপনা পর্যায়েও নতুন পদের চাহিদা বাড়ছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে টেলিহেলথ, দূরবর্তী রোগী পর্যবেক্ষণ এবং ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ডের মতো ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে অটোমেশন ও ডেটা বিশ্লেষকদের কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও বিপুল সংখ্যক রোগীর সেবা ব্যবস্থাপনার জন্য হাসপাতালগুলো এখন প্রযুক্তি ও বিশ্লেষণের সমন্বয়কারী কর্মীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সাইবার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় গবেষণাভিত্তিক কাজের পাশাপাশি দৈনন্দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবলের চাহিদা অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সামগ্রিক নিয়োগের গতি ধীর হলেও র্যানসমওয়্যার ও অননুমোদিত অনুপ্রবেশের ক্ষতি এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা খাতে বাজেট বজায় রাখছে। হুমকি শনাক্তকরণ, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার হামলার তাৎক্ষণিক সংকট ব্যবস্থাপনার মতো পরিচালনামূলক দক্ষতা এই খাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ই-কমার্স খাতের প্রসারে গুদাম ব্যবস্থাপনা, পরিবহন এবং পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে লাখ লাখ পার্সেল সামলানোর জন্য ডেটা ও সিস্টেমভিত্তিক কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। চাহিদার পূর্বাভাস, মজুদের কার্যক্ষমতা সূচক পরিচালনা এবং গুদাম ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের ব্যবহারিক জ্ঞানে দক্ষ কর্মীদের বিভিন্ন ব্র্যান্ড নিয়োগ দিচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে ডেটা সায়েন্সের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ডেটা সায়েন্সের পেশায় প্রায় ৩৪ শতাংশ কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। উচ্চতর তত্ত্বের চেয়ে ড্যাশবোর্ড তৈরি, ডেটা প্রস্তুতকরণ এবং বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানের প্রায়োগিক যোগ্যতাই এসব খাতে প্রবেশে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন