মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান

ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিনের বৈরী দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে এই ঘটনা এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এরই মধ্যে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বীকার করে নিয়েছেন। 

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স, নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং এক্সিওস এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই এর পাইলটের আর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ ওই পাইলটের সন্ধানে বর্তমানে বড় ধরনের তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে, পাইলটকে জীবিত উদ্ধার করা এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। 

অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক পৃথক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশেষ বাহিনী ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তারা পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে।এর আগে ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে দাবি করা হয়েছিল যে, তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে সফলভাবে ভূপাতিত করেছে ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। 

ইরানি সংবাদমাধ্যমের সেই প্রতিবেদনে আরও বলা হয় যে, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটকে খুঁজে বের করার জন্য মার্কিন বাহিনী ইরানি সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় এরই মধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে। তবে বিমানটি ঠিক কী কারণে বা কোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি।এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক বৈরীতা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। উদ্ধার অভিযান সফল হবে কি না বা পাইলট বর্তমানে কার হেফাজতে রয়েছেন, তা নিয়ে এখনো বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন এই বিষয়টিকে একটি গুরুতর জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছে। ঘটনার পর থেকে ওই অঞ্চলে মার্কিন নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: আল জাজিরা।