মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির মার্কিন প্রস্তাব নাকচ করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির মার্কিন প্রস্তাব নাকচ করল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠিপত্র না পাঠিয়ে বরং রণক্ষেত্রে হামলা অব্যাহত রাখার মাধ্যমেই এই প্রস্তাবের চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার একটি বন্ধুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানের কাছে এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক গুদামে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর ওয়াশিংটন কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জিনহুয়া জানিয়েছে, ওই গুদাম লক্ষ্য করে ইরানের হামলার পরই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। 

ফারস নিউজের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন ইরানের সামরিক সক্ষমতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে তাদের সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক ও গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, আর সেই বিপর্যয় এড়াতেই মূলত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।সংঘাতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দক্ষিণাঞ্চলের জলসীমায় হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন ‘এ-১০ ওয়ারথগ’ আক্রমণকারী বিমান ভূপাতিত করেছে। 

বিমানটি পরবর্তীতে পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়। এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছিল, তারা তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি অত্যাধুনিক মার্কিন ‘এফ-৩৫’ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, ওই যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের সময় পাঠানো একটি মার্কিন ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টারও ইরানের হামলার মুখে পড়ে।

যুদ্ধকবলিত এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইরানের কোহগিলুইয়ে ও বয়ার-আহমাদ প্রদেশের গভর্নর ইয়াদুল্লাহ রাহমানি স্থানীয় সাধারণ মানুষকে ‘শত্রু দেশের পাইলট’ খুঁজে বের করতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে অতর্কিত হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ নিহত হন। সেই ঘটনার কঠোর প্রতিশোধ হিসেবেই ইরান বর্তমানে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়েছে।