এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে ভারতের শিল্প খাতে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ভারতের লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার পর এবার দেশটির কনডম উৎপাদন শিল্প এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল ও বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না।
এর ফলে ভারতের প্রায় আট হাজার কোটি রুপির বিশাল এই খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।ভারতের শীর্ষস্থানীয় কনডম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এইচএলএল লাইফকেয়ার, কিউপিড লিমিটেড এবং ম্যানকাইন্ড ফার্মা এই সংকটের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে যে কনডম উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য লুব্রিকেন্ট এবং বিশেষায়িত পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যগুলোর সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাবে দেশটিতে এই পণ্যের উৎপাদন খরচ এরই মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
উল্লেখ্য যে ভারতে প্রতি বছর ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদিত হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কাঁচামালের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে খুচরা বাজারেও দাম বাড়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, কনডম তৈরির প্রধান কাঁচামাল ল্যাটেক্স প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রচুর পরিমাণ অ্যামোনিয়া প্রয়োজন হয়। ভারতের এই প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়ার প্রায় ৮৬ শতাংশই আসে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান থেকে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই আমদানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উৎপাদন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে সিলিকন অয়েলের দাম বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, যা বাজারের পুরো সরবরাহ চেইনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এছাড়া অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ও পিভিসিসহ প্যাকেজিং উপকরণের খরচ বাড়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া অনেক ধীর হয়ে পড়েছে।
ভারতীয় মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএ) সাবেক সভাপতি রাজীব জয়দেবন এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের প্রভাব শুধু অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এখন সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গর্ভনিরোধক পণ্যের মূল্য সামান্য বাড়লেও দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী নিয়মিত কনডম ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে পারে। এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের হার বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
একই সাথে এই সংকট দেশটিতে যৌনবাহিত রোগের বিস্তার বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে ভারতের পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে ভারতীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের চেষ্টা চালালেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন