এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তাদের পরিচালিত ‘ট্রু প্রমিস-৪’ অভিযানের ৯৫তম ধাপে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে নতুন করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে কঠোরভাবে চ্যালেঞ্জ করা।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, কুয়েতে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর হিমারস (HIMARS) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং বাহরাইনে অবস্থিত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করে এই আক্রমণ পরিচালনা করা হয়।
এর পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থাপনাগুলোতেও সফলভাবে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। তবে এই হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট একটি বাণিজ্যিক জাহাজেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ‘এমএসসি ইশিকা’ নামের এই জাহাজটিতে ড্রোন আঘাত হানার পর সেটিতে দাউ দাউ করে আগুন লেগে যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মারফত জানা গেছে, জাহাজটির সঙ্গে ইসরায়েলের গভীর সম্পৃক্ততা থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ছিল এবং এটি বাহরাইন থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে এই হামলার বিষয়ে ইসরায়েল এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি।
ইরানের এই সামরিক তৎপরতা শুধুমাত্র সরাসরি হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই বরং তারা একটি নতুন কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেছে। তেহরান বর্তমানে তাদের বিরোধী দেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। সেই সঙ্গে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহনে ব্যবহৃত এই নৌপথে চলাচলকারী সব জাহাজের ওপর বিশেষ টোল বা কর আরোপ করার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে ইরান।
এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্ককে এক ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, ওই অঞ্চলে মোতায়েনরত মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন