মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানে বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধারের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম

ইরানে বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধারের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে যে তীব্র গোলাগুলির পর ওই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে উদ্ধার করা হলেও ওই পাইলট এখনও পুরোপুরি নিরাপদ নন এবং তাকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি এখনও বেশ নাটকীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান যে ভূপাতিত হওয়া যুদ্ধবিমানের দুই ক্রু সদস্যের মধ্যে একজনকে আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল। দ্বিতীয় ক্রুকে খুঁজে পেতে পাহাড়ি এলাকায় বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে মার্কিন ড্রোন ও হেলিকপ্টারগুলো। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। মার্কিন সূত্রটি বলছে উদ্ধারকারী দলকে এখন ইরান থেকে সফলভাবে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে ফিরতে হবে যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি প্রক্রিয়া।

এর আগে গত শুক্রবার ইরান দাবি করেছিল তারা দুটি মার্কিন সামরিক বিমান ভূপাতিত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পারস্য উপসাগরে সংঘর্ষের পর একটি মার্কিন এ-১০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে সেই বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটিতে নাকি ইরানি বাহিনীর গুলিতে বিধ্বস্ত হয়েছে সে বিষয়ে মার্কিন পক্ষ থেকে এখনও সরাসরি কোনো পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি ইরাকে একটি ট্যাংকার বিমান এবং কুয়েতি বাহিনীর ভুলে তিনটি এফ-১৫ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি এর আগেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই চরম উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকেই ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হয় এবং ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে। যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান বারবার দাবি করে আসছে যে তারা শত্রুপক্ষের একাধিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীও কিছু বিমান হারানোর কথা স্বীকার করেছে। 

বর্তমান এই উদ্ধার অভিযানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এক নতুন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে উদ্ধার অভিযান এখনও শেষ হয়নি এবং উদ্ধারকারী দল নিরাপদ স্থানে না পৌঁছানো পর্যন্ত শঙ্কা কাটছে না।