এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১১:১৫ এএম
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘জেএএসএসএম-ইআর’ (JASSM-ER) মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্যান্য স্পর্শকাতর অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত মজুত থেকেও এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে।
মূলত ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল ও বিধ্বংসী আঘাত হানার লক্ষ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী এই বিশেষ অস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মার্চের শেষ দিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মজুত থেকে প্রায় ১৫ লাখ ডলার মূল্যের এই আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরিয়ে নেওয়ার আদেশ জারি করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক মার্কিন স্থাপনা থেকে এই অস্ত্রগুলো বর্তমানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন ঘাঁটি অথবা যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
এই ব্যাপক স্থানান্তরের ফলে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের জন্য মার্কিন সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরণের শূন্যতা তৈরির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।পরিসংখ্যান অনুযায়ী যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মোট ২ হাজার ৩০০টি জ্যাসম-ইআর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান চাহিদার কারণে এই সংখ্যাটি দ্রুত কমে আসছে। স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্বের বাকি অংশের জন্য মাত্র ৪২৫টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট থাকতে পারে।
এর বাইরে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অন্যান্য কারণে আরও অন্তত ৭৫টি ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই বিশাল মজুত হ্রাসের ফলে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।জ্বালানি ও কৌশলগত উত্তেজনার এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র শুধু দূরপাল্লাই নয় বরং প্রায় ২৫০ মাইল পাল্লার স্বল্পপাল্লার জ্যাসম ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশও এই যুদ্ধে নিয়োজিত করেছে।
সূত্রমতে মার্কিন মজুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এখন সরাসরি ইরান যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের বিমান হামলা শুরু করার পর থেকেই ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে সামরিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। বর্তমান হারে এসব ব্যয়বহুল অস্ত্র ব্যবহার করা হলে তা পুনরায় উৎপাদন করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক জেএএসএসএম-ইআর ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। গত চার সপ্তাহেই এক হাজারের বেশি এমন ক্ষেপণাস্ত্র নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এছাড়া ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের অভিযানেও ৪৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল মার্কিন বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিরোধ ভেঙে দিতে এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কতটুকু কার্যকর হয় এখন সেটিই দেখার বিষয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও অস্ত্রের ঘনত্ব এক নতুন যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন