মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

যুদ্ধ থামাতে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১২:১১ পিএম

যুদ্ধ থামাতে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ

ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এবার তেহরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ১০ দফা শান্তি পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য সামনে এসেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ফার্স-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে এই প্রস্তাবগুলো কেবল যুদ্ধ বন্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ বন্ধ এবং ইরানের ওপর থেকে সকল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বড় দাবি জানানো হয়েছে। 

আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরানের এই ১০ দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

তেহরানের এই কৌশলগত পরিকল্পনায় শুধু সামরিক সংঘাত থামানো নয় বরং দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। ফার্স সংবাদসংস্থার বরাত দিয়ে এই ১০ দফার যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তার প্রথম দিকেই রয়েছে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন একটি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার। 

এর বিনিময়ে ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সব ধরনের পশ্চিমা আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ করার নিশ্চয়তা চেয়েছে দেশটি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধরত বাহিনী প্রত্যাহার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা না চালানোর শর্তারোপ করা হয়েছে।বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়েও এই প্রস্তাবে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইরান। প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে যা হবে সম্পূর্ণ ‘সেফ প্যাসেজ প্রটোকল’ এবং ইরানের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী। 

এর বিনিময়ে তেহরানের ওপর আরোপিত প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং জাতিসংঘের সকল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও যুদ্ধের কারণে ইরানের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে একটি বিশেষ বিনিয়োগ ও আর্থিক তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যা অনেকটা যুদ্ধ-ক্ষতিপূরণের মতো কাজ করবে।পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রেও ইরান তার সার্বভৌম অধিকারের বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি নয়। প্রস্তাবে বলা হয়েছে পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধ করার অধিকারকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে হবে তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির মাত্রা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। 

আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক শান্তি চুক্তি এবং সকল প্রতিরোধ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অনাগ্রাসন নীতি সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই দশটি দফার চূড়ান্ত বাস্তবায়নে ইরান জাতিসংঘের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা রেজোলিউশনের মাধ্যমে আইনি সুরক্ষা চেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন ইসলামাবাদের এই বৈঠকই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি আসবে কি না।