সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

‘ইতিহাসে ইসরায়েলের এত বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় আগে ঘটেনি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০১:২০ পিএম

‘ইতিহাসে ইসরায়েলের এত বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় আগে ঘটেনি’

ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে চরম ব্যর্থ বলে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ। সম্প্রতি ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, ইসরায়েলের ইতিহাসে এত বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় এর আগে আর কখনো ঘটেনি। 

লাপিদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্তের সময় ইসরায়েল আলোচনার টেবিলেই ছিল না, যা অত্যন্ত অপমানজনক।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ইয়াইর লাপিদ তাঁর ক্ষোভ উগড়ে দেন। 

তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এবং সাধারণ জনগণ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও সহনশীলতার পরিচয় দিলেও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেটির মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে নেতানিয়াহু যুদ্ধের শুরুতে যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, তার একটিও তিনি আজ পর্যন্ত অর্জন করতে পারেননি বলে দাবি করেন এই বিরোধী নেতা।

নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন লাপিদ। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অহংকার, অবহেলা এবং দূরদর্শী কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবেই আজ ইসরায়েল এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এই রাজনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতি এতটাই গভীর যে এটি কাটিয়ে উঠতে দেশটির বহু বছর সময় লেগে যাবে বলে তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। মূলত নীতিগত অদূরদর্শিতার কারণে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সক্রিয় মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতানিয়াহু প্রশাসনের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে গেল। লাপিদের এই কড়া বার্তা সেই রাজনৈতিক সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।