এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্য নিয়ে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলটি শনিবার ইসলামাবাদে অবতরণ করে।
এই সফরে ভ্যান্সের সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে দুই দেশের এই সরাসরি বৈঠককে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত শুক্রবার ওয়াশিংটন থেকে বিশেষ বিমান এয়ার ফোর্স টুতে করে পাকিস্তানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। মূলত যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।
এর আগে শুক্রবার রাতেই ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে এসে পৌঁছায়। ইরানের এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সংসদ স্পিকার বাঘের কালিবাফ। প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি আলী বাঘেরি কানি। শনিবার সকাল থেকেই তাঁরা ইসলামাবাদের নির্ধারিত সভাস্থলে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের পাকিস্তানে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিক ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির, জাতীয় সংসদের স্পিকার আয়াজ সাদিক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে বিদেশি প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের জন্য নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো শহর জুড়েই এখন সাজ সাজ রব এবং কূটনৈতিক পাড়া বিশেষ প্রহরার আওতায় রয়েছে।কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায় আজ বিকেলেই দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
জ্যারেড কুশনারের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের এই আলোচনায় অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে কারণ ট্রাম্পের আগের মেয়াদে তিনি মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। এই আলোচনার সাফল্যের ওপর কেবল মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি নয় বরং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতাও অনেকাংশে নির্ভর করছে। ইসলামাবাদ এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে যেখান থেকে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর নতুন কোনো রূপরেখা আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই সংলাপ সফল হলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নতুন ভাবমূর্তি তৈরি করবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন