রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা স্থগিত, জানা গেল নেপথ্যের কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ১৯, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা স্থগিত, জানা গেল নেপথ্যের কারণ

লেবাননে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ সহিংসতা ও ইসরাইলি বিমান হামলার জেরে সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক শান্তি আলোচনা আকস্মিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আজ শুক্রবার নির্ধারিত ওই বৈঠকটি শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তাঁর পরিকল্পিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করার ঘোষণা দেন। দুই দেশের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা প্রশমনে ওয়াশিংটনের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এই সরাসরি সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। 

মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে এই পুরো প্রক্রিয়ার সাথে ডিজিটাল পদ্ধতিতে যুক্ত ছিল পাকিস্তান।হঠাৎ করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে বহুল আলোচিত এই আন্তর্জাতিক শান্তি প্রক্রিয়া গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বেও ছিলেন ভ্যান্স। অন্য দিকে তেহরানের পক্ষে সেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দেশটির পার্ল্যামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র গতকাল রাতে জানান যে পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর ছিল। 

সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আজ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের উদ্দেশ্যে তৈরি করা প্রস্তাবিত ১৪ দফা চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে নির্ধারিত বৈঠকটি আপাতত হচ্ছে না।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় বেশ কয়েকজন ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে রাতভর চালানো ওই হামলায় অন্তত ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৩৩ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। 

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে তারা হিজবুল্লাহর ৮০টিরও বেশি গোপন স্থাপনায় সফলভাবে আঘাত হেনেছে। এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির কারণে মাত্র দুদিন আগে হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বড় ধরণের প্রশ্ন উঠেছে। কারণ আলোচনায় তেহরানের অন্যতম প্রধান শর্তই ছিল লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ করা যা তারা নিজেদের রেড লাইন বা অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে কোনো আলোচনাতেই তাদের নির্ধারিত এই সীমারেখাকে অবশ্যই পুরোপুরি সম্মান জানাতে হবে। ইরানি জনগণের মৌলিক স্বার্থ ও পূর্বনির্ধারিত শর্ত থেকে তারা কোনো অবস্থাতেই একচুলও সরে আসবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান। প্রতিপক্ষ যদি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চালায় তবে তেহরানও তার কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।