শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

সমঝোতা ছাড়াই পাকিস্তান ছাড়ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম

সমঝোতা ছাড়াই পাকিস্তান ছাড়ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

চুক্তি ছাড়াই ফিরলেন জেডি ভ্যান্স

ইরানের সাথে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা শেষে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক সমঝোতা বা চুক্তি ছাড়াই ঢাকা ছাড়ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রোববার (১২ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি এই বৈঠককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রত্যাশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল কোনো চুক্তিতে রূপ নিতে পারেনি।

ইসলামাবাদ ত্যাগের আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জেডি ভ্যান্স আলোচনার পরিবেশ ও আতিথেয়তার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের আতিথেয়তা ছিল অসাধারণ। 

আলোচনায় যদি কোনো ঘাটতি থেকে থাকে, তবে তার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়।” আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে তিনি মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তার মতে, “ভালো খবর হলো—আমরা টানা ২১ ঘণ্টা সরাসরি কথা বলেছি, যা সংকট সমাধানে জরুরি ছিল। কিন্তু খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি।

তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, এই চুক্তি না হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি ক্ষতির কারণ হবে।বৈঠকটি কেন ব্যর্থ হলো, সে বিষয়েও আলোকপাত করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা অগ্রহণযোগ্য সীমারেখাগুলো ইরানের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিল। কোন কোন ইস্যুতে ছাড় দেওয়া সম্ভব আর কোনটিতে নয়, তা পরিষ্কার করা হলেও ইরান সেই শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি হয়নি। মূলত ওয়াশিংটনের দেওয়া কঠিন শর্তগুলো তেহরান প্রত্যাখ্যান করার কারণেই এই দফার আলোচনা কোনো লিখিত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে এই সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে ইরানি প্রতিনিধিদল এবং জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধিদল লেবানন সংকট, ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আলোচনায় শুরুতে দুই পক্ষ আলাদা কক্ষে অবস্থান করলেও শনিবার সন্ধ্যায় তারা সরাসরি একই টেবিলে বসেন। একে একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানি সূত্রগুলো দাবি করেছিল যে, জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই তারা আলোচনায় অংশ নেয়। তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হওয়ায় সম্পদ ছাড়ের বিষয়টিও ঝুলে রইল বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই দফায় কোনো চুক্তি হয়নি, তবে সরাসরি আলোচনার এই ধারাকে ভবিষ্যতে বড় কোনো সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বর্তমানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন।