রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৪

গাজায় ইসরাইলি হামলার দৃশ্য

গাজায় দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার ঘোষণা থাকলেও ভূখণ্ডটিতে ইসরাইলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে চালানো এসব হামলায় এক শিশুসহ অন্তত চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত ১০ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও মাঠপর্যায়ে সহিংসতা বন্ধ না হওয়ায় চুক্তি লঙ্ঘন নিয়ে ইসরাইল ও হামাস একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযোগ তুলছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির এক প্রতিবেদনে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসালের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে সালেহ বদউই নামে ৯ বছরের এক শিশু রয়েছে। 

গাজা সিটির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত জেইতুন এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে দ্রুত আল-মা’মাদানি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।এদিকে গাজার উত্তরাঞ্চলীয় বেইত লাহিয়া এলাকায় একটি স্কুলের সন্নিকটে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। 

এই হামলায় দুই ভাই প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্রগুলো। একই দিনে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের কাছে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ৩৮ বছর বয়সী মোহসিন ওদা আল-দাব্বারি নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। চলমান এই পরিস্থিতির বিষয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বেইত লাহিয়ায় তারা দুজন সন্ত্রাসীকে নির্মূল করেছে যারা নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করে সেনাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। তবে শিশু ও বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনাগুলো তারা যাচাই করে দেখছে বলে জানানো হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া ভয়াবহ যুদ্ধের দুই বছর পার হওয়ার পর এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, চুক্তি হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে একই সময়ে ইসরাইলি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের পাঁচ সেনা সদস্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। 

জাতিসংঘ এই হতাহতের তথ্যকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করলেও গাজায় গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকায় অনেক ক্ষেত্রে তথ্যের নিরপেক্ষ যাচাই কঠিন হয়ে পড়েছে। মূলত রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে গাজায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখনো চরম অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।