এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে বর্তমানে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন লাইভ ট্র্যাকিং অ্যাপ ও আন্তর্জাতিক শিপিং সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে বর্তমানে বেশিরভাগ জাহাজই প্রণালির পশ্চিম দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ইরান সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় হাজার হাজার জাহাজ আটকা পড়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিগত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে গতকাল অন্তত ১২টি জাহাজ লারাক দ্বীপের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। উল্লেখ্য যে এই দ্বীপ এলাকাটি মূলত ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে থাকে। তবে নিরাপত্তার ঝুঁকি ও বিভ্রান্তির কারণে জাহাজগুলো লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাতে না পেরে মাঝপথ থেকেই ফিরে আসে। আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এই অবস্থায় বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না বলে জানা গেছে। অধিকাংশ জাহাজই এখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিপরীত দিকে চলে যাচ্ছে।
আজকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১০টি জাহাজ কোনোমতে প্রণালি পার হয়ে ওমান উপসাগরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই জাহাজগুলোর মধ্যে ৫টি আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় হলো এই জাহাজগুলোর যাত্রা রুখতে মার্কিন নৌ-অবরোধ কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নেয় কি না।
যারা এই পথটুকু পার হতে পেরেছে তারা সবাই মূলত ইরানের নির্ধারিত ও নির্দেশিত পথটিই ব্যবহার করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাধারণ শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য এই পথে চলা এখন এক ধরনের জুয়া খেলার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য নিয়ে সাগরে ভাসমান থাকায় সময় ও অর্থের ব্যাপক অপচয় বাড়ছে। এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো এই পরিস্থিতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
তাদের মতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচলের অধিকার সবার রয়েছে এবং ইরান কোনোভাবেই এই আন্তর্জাতিক পথটিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে না। সামগ্রিকভাবে হরমুজ প্রণালি ঘিরে এক ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো দ্রুত এই অচলাবস্থা নিরসনের দাবি জানালেও পরিস্থিতি এখনও থমথমে রয়ে গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন