মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানের জন্য ৬টি স্থলপথ ও সড়ক করিডোর খুলল পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

ইরানের জন্য ৬টি স্থলপথ ও সড়ক করিডোর খুলল পাকিস্তান

ইরানের পণ্য যাবে পাকিস্তানের পথে

ইরানগামী পণ্যের জন্য ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থলপথ খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। একই সাথে দেশটির ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে একটি বিশেষ সড়ক করিডোরকেও আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানি বন্দর ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় করাচি বন্দরে হাজার হাজার কন্টেইনার আটকা পড়েছিল। এই সংকট নিরসনেই ইসলামাবাদ এমন পদক্ষেপ নিল।

পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৫ এপ্রিল ‘পাকিস্তান ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে পণ্য ট্রানজিট আদেশ ২০২৬’ জারি করেছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই আদেশের ফলে তৃতীয় দেশ থেকে আসা যেকোনো পণ্য এখন পাকিস্তানের ভূখণ্ড ও সড়কপথ ব্যবহার করে ইরানে পৌঁছাতে পারবে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদ সফর করেন। সফরকালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সাথে বৈঠক করেন। ওই আলোচনার পরই এই স্থলপথগুলো খুলে দেওয়ার ঘোষণা আসে।

ফেডারেল বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক বাণিজ্য প্রসারে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিশেষ আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই ট্রানজিট সুবিধা ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান বিমান যুদ্ধের পর থেকে পাকিস্তানের ওপর দিয়ে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, তা এখনও বলবৎ রয়েছে।

নির্ধারিত ছয়টি পথ পাকিস্তানের প্রধান তিন বন্দর—করাচি, পোর্ট কাসিম এবং গোয়াদরকে ইরানের দুটি সীমান্ত ক্রসিং গাব্দ ও তাফতানের সাথে সংযুক্ত করবে। এই রুটগুলো বেলুচিস্তানের তুরবাত, পাঞ্জগুর, খুজদার, কোয়েটা ও ডালবন্দিন হয়ে ইরান সীমান্তে পৌঁছাবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছয়টি রুটের মধ্যে গোয়াদর-গাব্দ করিডোরটি সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত। এই পথে ইরান সীমান্তে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা। যেখানে করাচি বন্দর থেকে ইরান সীমান্তে পৌঁছাতে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য মতে, করাচি বন্দরের তুলনায় গোয়াদর-গাব্দ পথটি ব্যবহার করলে পণ্য পরিবহনের খরচ প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে।