মে ৯, ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওডিশা উপকূল থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এটি আইসিবিএম শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র। ডিআরডিও এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা না দিলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বহুল আলোচিত অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের সমতুল্য হতে পারে।
এই পরীক্ষাকে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো হাতেগোনা কয়েকটি দেশের কাছে ১২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার আইসিবিএম প্রযুক্তি রয়েছে।
ভারত এই প্রযুক্তিতে পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় চলে আসবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।বিশ্লেষকদের মতে, আইসিবিএম প্রযুক্তি থাকা মানে পারমাণবিক হামলার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা। এই সক্ষমতা প্রতিপক্ষকে যেকোনো ধরনের বড় হামলা থেকে বিরত রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে এটি ভারতের রকেট প্রপালশন ও নির্ভুল লক্ষ্যভেদী প্রযুক্তির বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেছে, অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ভারত মহাশক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে। সেই ভিডিওতে জানানো হয়, এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি হবে। এতে এমআইআরভি প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে আলাদা আলাদা একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ওয়ারহেড নিক্ষেপ করা সম্ভব।
একই সময়ে ভারত সাধারণ যুদ্ধাস্ত্রকে স্মার্ট অস্ত্রে রূপান্তরের নতুন দেশীয় প্রযুক্তিও উদ্ভাবন করেছে। ডিআরডিও ও ভারতীয় বিমানবাহিনী যৌথভাবে ওডিশা উপকূলে গ্লাইড ওয়েপন সিস্টেমের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ ও লক্ষ্যহীন বোমাকে আধুনিক স্মার্ট অস্ত্রে রূপান্তর করা সম্ভব হবে, যা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্ভাবন ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে উন্নত সমরাস্ত্র প্রযুক্তিসম্পন্ন দেশগুলোর কাতারে আরও এগিয়ে নেবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন