বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

স্ত্রী-মেয়েকে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়া ঘরেই ৭ মাস ধরে বসবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ২১, ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম

স্ত্রী-মেয়েকে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়া ঘরেই ৭ মাস ধরে বসবাস

শোবার ঘরেই ৭ মাস চাপা ছিল স্ত্রী-কন্যার কঙ্কাল

ভারতে গুজরাটের মেহসানা জেলায় এক লোমহর্ষক অপরাধের রহস্য উন্মোচন হয়েছে, যা পুরো অঞ্চলকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। গত ৪ মে এক যুবক সরকারি হাসপাতালের ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার পর তার পকেটে পাওয়া একটি চিরকুট পুলিশের সামনে নিয়ে আসে এক অবিশ্বাস্য ও বীভৎস হত্যাকাণ্ডের কাহিনী। 

চিরকুটে ওই যুবক স্বীকার করেন যে, প্রায় সাত মাস আগে তিনি নিজ স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা ও দুই বছরের শিশুকন্যা পরীকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতেই মাটিচাপা দিয়ে রেখেছিলেন।সবচেয়ে বিস্ময়কর ও নিষ্ঠুর বিষয় হলো, মেঝেতে মাটিচাপা দেওয়ার পর সেখানে সিমেন্টের পাকা প্লাস্টার করে যুবকটি তার অপর শিশুকন্যাকে নিয়ে একই ঘরে বসবাস করতেন।

পুলিশের অভিযানে ওই বাড়ির মেঝে খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় মা ও মেয়ের কঙ্কালসার দেহ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আর্থিক সংকটের কারণে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর, যখন থেকে প্রিয়াঙ্কা নিখোঁজ ছিলেন। 

এতদিন গিরিশ মিথ্যা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে চললেও, স্ত্রীর পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ার ভয়ে সে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে কঙ্কালগুলো প্রিয়াঙ্কা ও পরী শিশুকন্যারই।

এই ঘটনাটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং মানুষের অন্ধকার মানসিকতার এক চরম বহিঃপ্রকাশ। সাত মাস ধরে যে মেঝেতে স্ত্রী-সন্তানকে মাটিচাপা দিয়ে সেই যুবক প্রতিদিন খাওয়া-দাওয়া ও বসবাস করত, তা কল্পনা করাও সাধারণ মানুষের জন্য দুঃসাধ্য। বর্তমানে উদ্ধার করা দেহাবশেষ প্রিয়াঙ্কার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, তবে এই লোমহর্ষক ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি স্থানীয় জনমনে।