বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় একই পরিবারের ৯ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ৩১, ২০২৬, ১১:১৮ এএম

লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় একই পরিবারের ৯ জন নিহত

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। সর্বশেষ এই হামলায় একই পরিবারের ৯ জন সিরীয় শরণার্থী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জনই শিশু এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া সব মরদেহই একই পরিবারের সদস্য বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এই হামলার খবরটি প্রথম জানায় আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু।লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাইদা সংলগ্ন আদলুন শহরের একটি আবাসিক বাড়িতে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান এই বিমান হামলা চালায়। 

ওই বাড়িটিতে মূলত সাধারণ বেসামরিক লোকজন দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করতেন। আচমকা চালানো এই হামলার কারণে পুরো ভবনটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরবর্তী সময়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়।যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনার পর গত ১৭ এপ্রিল এই যুদ্ধবিরতি প্রথম কার্যকর হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে গত ১৭ মে থেকে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হলেও ইসরাইল লেবাননের মাটিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। লেবাননে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী কার্যকর যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলি বাহিনী দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবানন, বেকা উপত্যকা এবং হিজবুল্লাহর শক্ত অবস্থান রয়েছে এমন এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতিনিয়ত এসব হামলা পরিচালিত হচ্ছে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা কেবল হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো, গোপন অস্ত্রভাণ্ডার ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে এই হামলাগুলো করছে।

তবে লেবাননের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। গত কয়েক মাসে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী, শিশু, চিকিৎসাকর্মী ও জরুরি সেবাকর্মীও রয়েছেন। একই সঙ্গে এই সীমান্ত সংঘাতের কারণে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহও ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সীমান্তজুড়ে চরম উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা এবং গাজা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির ওপর লেবানন সীমান্তের সংঘাত অনেকটাই নির্ভর করছে।