জুন ২, ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
জটিল অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার সময় প্রায় দ্বিগুণ করে দিতে পারে নতুন আবিষ্কৃত একটি যুগান্তকারী মুখে খাওয়ার ওষুধ। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে আয়োজিত বিশ্বের বৃহত্তম ক্যানসারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সম্প্রতি এই বৈপ্লবিক ও মানবকল্যাণমুখী চিকিৎসা গবেষণার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞেরা এই নতুন ওষুধ আবিষ্কারকে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে ক্যানসার দমনে সবচেয়ে বড় এবং আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।আন্তর্জাতিক এক বিশেষ বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে ডারাক্সোনরাসিব নামের এই নতুন জেনোবায়োটিক ওষুধের কার্যকারিতার তথ্যটি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রায় ৫০০ জন জটিল ক্যানসার রোগীর ওপর চালানো এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা কার্যকারিতা পরীক্ষায় দেখা গেছে যে ওষুধটি রোগীদের জীবনকাল নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।
পরীক্ষায় নতুন এই ওষুধ গ্রহণকারী রোগীরা যেখানে গড়ে ১৩ মাস ২ দিন পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন, সেখানে প্রচলিত কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের গড় বেঁচে থাকার সময় ছিল মাত্র ৬ মাস ৬ দিন। এছাড়া সাধারণ কেমোথেরাপির তুলনায় এই আধুনিক মুখে খাওয়ার ওষুধের মানবশরীরে জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেক কম লক্ষ্য করা গেছে যা রোগীদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক।এই নতুন রাসায়নিক ফর্মুলেশনটি মূলত ক্যানসার কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিভাজন প্রক্রিয়াকে একদম গোড়া থেকে ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
চিকিৎসকেরা জানান যে ডারাক্সোনরাসিব ওষুধটি মানবদেহের ক্যানসার উৎপাদনকারী বিশেষ `ক্রাস` নামক প্রোটিনকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে ক্যানসার কোষের বিস্তার সফলভাবে থামিয়ে দেয়। উল্লেখ্য যে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত শতকরা ৯০ ভাগের বেশি রোগীর ক্রাস জিনে এক ধরনের বিপজ্জনক মিউটেশন বা রাস জি১২ ভ্যারিয়েন্ট থাকে যা কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ঘটায়। গবেষকেরা অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন যে এই সফল জিনগত প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ফুসফুস ও কোলন ক্যানসারসহ অন্যান্য জটিল টিউমার চিকিৎসায় এক নতুন এবং বৈপ্লবিক দিগন্তের উন্মোচন করবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন