মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাপনের ৫টি সহজ অভ্যাস

স্বাস্থ্য ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাপনের ৫টি সহজ অভ্যাস

ছবি: Ai

আমাদের শরীরের ভেতরে অজান্তেই কখন যে ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী ব্যাধি বাসা বাঁধে, তা তাৎক্ষণিকভাবে অনুধাবন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। দৈনন্দিন জীবনে সামান্য ক্লান্তি, দীর্ঘস্থায়ী বুকজ্বালা বা অম্বল, সাধারণ বদহজম কিংবা পেট ফাঁপার মতো শারীরিক অস্বস্তিগুলোকে সাধারণ কাজের চাপ বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ভেবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই উপেক্ষা করার প্রবণতা দেখা যায়। অথচ এ ধরনের আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ সমস্যাগুলোই অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের মতো জটিল রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে বলে মত দিচ্ছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। 

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শারীরিক জটিলতাকে অবহেলা না করে দৈনন্দিন জীবনযাপনের কয়েকটি নির্দিষ্ট অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে ক্যানসারের সার্বিক ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস করা যায়। জীবনযাপনে ছোট ছোট পরিবর্তন বড় রোগের ঝুঁকি কমায়। প্রথমত, ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব পুরোপুরি বর্জন করা জরুরি। হঠাৎ ধূমপান ত্যাগ করা অনেকের জন্যই কঠিন হতে পারে, তবে এর মাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনার তাগিদ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। 

তামাক ও সিগারেটের বিষাক্ত ধোঁয়ায় বেনজিন, ফরমালডিহাইড এবং নাইট্রোসামিনের মতো প্রায় ৭০টিরও বেশি ক্ষতিকর উপাদান বিদ্যমান থাকে, যা সরাসরি কোষের ক্ষতিকর রূপান্তরে সহায়তা করে। এগুলো মানুষের দেহকোষের স্বাভাবিক গঠন ও জিনগত বিন্যাসে বিপর্যয় সৃষ্টি করে ক্যানসারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এ কারণে সরাসরি ধূমপান থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি আশপাশের পরোক্ষ ধূমপান থেকেও দূরে থাকা আবশ্যক।

দ্বিতীয়ত, ঘুমের সঠিক সময় ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা ক্যানসার প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যমতে, রাত ১১টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ির কার্যক্রম সচল রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। রাত ১১টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত মানবদেহে প্রাকৃতিকভাবেই কোষের নানা অসংগতি মেরামতের কাজ চলে। তাই নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং শোবার ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার রাখা প্রয়োজন। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সামান্য নীল আলোও মানুষের মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। অথচ এই মেলাটোনিন হরমোন টিউমার কোষের অনাকাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি এবং বিভাজন প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।

তৃতীয়ত, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস এবং আহারের অন্তর্বর্তী সময়ের বিরতিতে ভারসাম্য আনা প্রয়োজন। প্রতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা, অথবা কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা সময় পেট পুরোপুরি খাবারমুক্ত রাখার চেষ্টা করা উপকারী। উদাহরণস্বরূপ, রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার সম্পন্ন করে পরদিন সকাল ৮টা বা ১০টায় সকালের নাশতা গ্রহণ করা যেতে পারে। দীর্ঘ এই বিরতির সময়ে মানবদেহে স্বয়ংক্রিয় অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা প্রক্রিয়া কার্যকর হয়, যা কোষের ভেতরে জমে থাকা ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ ও ঝুঁকি বৃদ্ধিকারী উপাদানগুলোকে বিনষ্ট করে দেয়।

চতুর্থত, দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিক এবং কৃত্রিম নন-স্টিক পাত্রের অতিব্যবহার সীমিত করা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ফলদায়ক। প্লাস্টিকের তৈরি বোতল বা পাত্রে সরাসরি গরম খাবার সংরক্ষণ এবং নন-স্টিক পাত্রে উচ্চতাপে রান্নার অভ্যাস ত্যাগ করে প্রচলিত লোহা বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ। প্লাস্টিক ও নন-স্টিক তৈজসপত্রে ব্যবহৃত নানা রাসায়নিক উপাদান মানবদেহে প্রবেশ করে হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিনষ্ট করে এবং কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন ত্বরান্বিত করে। এর ফলে নারীদের স্তন, জরায়ু, ডিম্বাশয় এবং থাইরয়েড ক্যানসারের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

পঞ্চমত, অ্যালকোহল সেবন পুরোপুরি ত্যাগ করা অথবা এর মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা ক্যানসার প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যালকোহল যখন শরীরে বিপাক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্লিষ্ট হয়, তখন তা অ্যাসিটালডিহাইড নামক একটি মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক যৌগে রূপান্তরিত হয়, যা মানবদেহের কোষীয় প্রোটিনের গভীর ক্ষতিসাধন করে থাকে। একই সাথে এটি নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে। অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বা পুরোপুরি বর্জন করার মধ্য দিয়ে মানবদেহের লিভার, মুখগহ্বর, গলা, খাদ্যনালী, অগ্ন্যাশয়, স্তন এবং কোলন ক্যানসারের মতো মারাত্মক ঝুঁকিগুলো কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।