বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

আল-আকসায় ঢুকে জাতীয় সংগীত ও পতাকা প্রদর্শন করল ইসরাইলিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ২, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

আল-আকসায় ঢুকে জাতীয় সংগীত ও পতাকা প্রদর্শন করল ইসরাইলিরা

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ইসরাইলি উগ্র জাতীয়তাবাদীদের একদল জোরপূর্বক প্রবেশ করে দেশটির জাতীয় পতাকা প্রদর্শন এবং জাতীয় সংগীত গেয়ে চরম উসকানি সৃষ্টি করেছে। গত রোববার ইসরাইলি পুলিশের কড়া পাহারায় অন্তত ১৯৯ জন উগ্রপন্থী সেটলার পবিত্র এই ধর্মীয় স্থাপনাটিতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে এই ধৃষ্টতা দেখায়। 

পবিত্র এই চত্বরে কেবল পতাকা প্রদর্শনই নয়, বরং অনেককে ইহুদিদের তালমুদীয় ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী জোরাজুরি করে প্রার্থনা করতেও দেখা গেছে।কয়েক দশক ধরে চলে আসা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ‍‍`স্থিতাবস্থা‍‍` চুক্তির তোয়াক্কা না করেই ইসরাইলি উগ্রপন্থিরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণটি কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র ইবাদতের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। জর্ডানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‍‍`জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াফ‍‍` এই পবিত্র স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ ও সামগ্রিক প্রশাসনিক বিষয়গুলো অত্যন্ত সুনামের সাথে দেখাশোনা করে আসছে। 

জেরুজালেম গভর্নরেটের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক ওমর রাজউব জানান যে আল-আকসায় এই ধরনের পরিকল্পিত তাণ্ডব মূলত পবিত্র শহরের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পরিচয় মুছে ফেলার একটি চলমান ঔপনিবেশিক প্রকল্পের অংশ।ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ সুরক্ষায় পরিচালিত এই ধরনের নিয়মিত অনুপ্রবেশ ও তাণ্ডব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।রোববার উগ্র সেটলাররা যখন মসজিদের ভেতর তাণ্ডব চালাচ্ছিল, তখন ইসরাইলি পুলিশ সাধারণ ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের প্রবেশাধিকারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করাসহ পরিচয়পত্র কেড়ে নেয়।

 

ওয়াফ সংস্থাটি জানিয়েছে যে উগ্রপন্থিরা ইচ্ছে করেই ‍‍`ডোম অব দ্য রক‍‍` বা কুব্বাত আস-সাখরার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে মুসল্লিদের চরমভাবে উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর-ডানপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই মুসলিম পবিত্র স্থানে উগ্র ইহুদিদের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অনৈতিক তাণ্ডবের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।