রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হরমুজে মার্কিন লেজার অস্ত্র মোতায়েন: নিয়ন্ত্রণে এক্সবক্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

হরমুজে মার্কিন লেজার অস্ত্র মোতায়েন: নিয়ন্ত্রণে এক্সবক্স

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে সন্দেহজনক ড্রোন ও আকাশপথে আসা সম্ভাব্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় অত্যাধুনিক উচ্চক্ষমতার লেজার অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সমুদ্রপথে আসা বিভিন্ন হুমকি প্রতিহত করতে ব্যবহৃত এই বিধ্বংসী প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হচ্ছে ভিডিও গেম কনসোলের জন্য তৈরি পুনর্গঠিত এক্সবক্স কন্ট্রোলার। প্রচলিত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় উল্লেখযোগ্য কম খরচে আকাশপথের আক্রমণ নস্যাতের লক্ষ্যেই সামরিক বাহিনী এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়েছে।

ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের বিকল্প খুঁজতে লেজার ব্যবস্থায় জোর ওয়াশিংটনের। গত পাঁচ দশক ধরে ওয়াশিংটন এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আসছে এবং তাদের দাবি অনুযায়ী বর্তমানে বৈশ্বিক শক্তির অন্যান্য দেশের তুলনায় এই ক্ষেত্রে তারা অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। সিস্টেমটির পেছনে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। এখানে প্রতিটি আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রচলিত ভৌত ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে হয় না। জেনারেটর বা শক্তিশালী ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে তা ঘনীভূত আলোকরশ্মিতে রূপান্তর করা হয়, যা ক্ষণিকের মধ্যে ড্রোনের সেন্সর পুড়িয়ে দিতে কিংবা আকাশযানের মূল অংশ ধ্বংস করতে সক্ষম।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিরেক্টেড এনার্জি কনসালট্যান্টস-এর সভাপতি মার্ক নিস জানান, এই ব্যবস্থা ড্রোনের গতিবিধি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে নির্দিষ্ট স্থানে আঘাত হানতে পারে। সামরিক বাহিনী লেজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্যিক গেমিং কনসোলের সাহায্য নিচ্ছে। লক্ষ্যবস্তু অনুসরণের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আগে থেকেই ভিডিও গেম শিল্পে প্রতিষ্ঠিত থাকায় সামরিক ব্যবহারের জন্য নতুন করে কনসোল তৈরির পরিবর্তে পুনর্গঠিত এক্সবক্স কন্ট্রোলার বেছে নেওয়া হয়েছে। সামরিক বিষয়ক বিশ্লেষক জ্যারেড কেলারের মতে, ল্যাবরেটরির গবেষণাকে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে আনার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। মাদক কার্টেল দমন ও যুদ্ধজাহাজে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা হলেও এখনো মানুষের বিরুদ্ধে সরাসরি এটি ব্যবহারের ঘটনা ঘটেনি।

আমেরিকান ফরেন পলিসি কাউন্সিলের ফেলো ব্রেন্ট জিয়ার্নিক মনে করেন, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত থাকলে লেজার প্রযুক্তি গোলাবারুদের ওপর নির্ভরশীলতা বহুগুণ কমিয়ে রসদ সরবরাহে স্বস্তি আনবে। তবে সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট। ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতার হেলিওস কিংবা গ্রুপ-৩ ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম বোয়িংয়ের তৈরি সিএলডব্লিউএস ব্যবস্থার আকার ও ওজন এখনো অনেক বেশি। বড় যুদ্ধজাহাজ ছাড়া এগুলো বহন করা কঠিন এবং কার্যকারিতার জন্য সাধারণত পরিষ্কার আকাশ প্রয়োজন পড়ে। প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা একসঙ্গে শত শত ড্রোনের ঝাঁক আক্রমণ চালালে একক ব্যবস্থা কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটেনি।