মে ২৫, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ। পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে রোববার সিএমএম আদালতে এই প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
চার্জশিটে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সংশ্লিষ্টতার ভয়াবহ সব তথ্য উঠে এসেছে।ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে রোমহর্ষক বর্ণনা।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল জানিয়েছে, গত ১৯ মে সকালে পাশের বাসার শিশুটিকে ডেকে নিয়ে বাথরুমে আটকে রাখে সে। শিশুটি চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। শ্বাসরোধ ও মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়ার পর রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সেটিকে মৃত্যু মনে করে আসামি। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে সে মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা চালায়।
ময়নাতদন্তে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শকজনিত মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।জবানবন্দিতে সোহেল আরও জানায়, ঘটনার পর রামিসার মা যখন বাসার সামনে জুতো দেখে ডাকাডাকি করছিলেন, তখন তার স্ত্রী স্বপ্না তাকে পালাতে সহায়তা করে। পুলিশের ধাওয়া এড়াতে জানালার গ্রিল ভেঙে পালানোর সময় স্বপ্না দরজা আগলে রেখেছিল। সোহেল পালিয়ে যাওয়ার পরই স্বপ্না দরজা খুলে দেয়। আলামত নষ্ট করা ও আসামিকে পালানোয় সহায়তার দায়ে স্ত্রীকেও আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে উঠেছে।বর্তমানে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। সোহেলের জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার সময় সে মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিল। আদালতে দাখিল করা ৪৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটে ঘটনার সময়রেখা ও আলামত সংগ্রহের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তরের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।বিচার চেয়ে অপেক্ষায় রামিসার শোকার্ত পরিবার।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন