জুন ২১, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
বগুড়ায় আট বছরের শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে অপরাধ সংঘটনের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় অপর পাঁচজন আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ আট বছর আইনি প্রক্রিয়া চলার পর এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় আজ ঘোষিত হলো।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন আসামি হলেন শাহজাহানপুর উপজেলার খাদাশ গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ, সাগর হোসেন, সেলিম ইসলাম, মেহেদী হাসান ও রাজু ইসলাম। এদের মধ্যে সাগর হোসেন এবং সেলিম ইসলাম উচ্চ আদালত থেকে পূর্বে জামিন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন। অন্য তিনজন আসামি রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া মাসুদ রানা নামের অপর একজন আসামি বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন জেলা কারাগারে মৃত্যুবরণ করায় তাঁকে এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।হত্যাকাণ্ডের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় শিশু বিবেচনায় ১০ বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন হলেন একই এলাকার সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেন। তারা বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক হলেও ঘটনার সময় শিশু আইন অনুযায়ী অপরাধী বিবেচিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাদের এই কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার পরপরই উপস্থিত আসামিদের কড়া পুলিশি বা পাহারায় বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত শিশু রিফাত হোসেন শাহজাহানপুর উপজেলার খাদাশ হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে ছিল। গত ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই বিকেলে প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ প্রবাসীর কাছে এক লাখ টাকা ধার চান এবং টাকা না পেয়ে ক্ষোভে রিফাতকে অপহরণ করে হত্যা করেন। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পার্শ্ববর্তী পোয়ালগাছা গ্রামের ভদ্রাবতী নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলি মো. আলী আসগর জানান, মামলার তদন্ত চলাকালে মোট ১১ জন আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। অপহরণ, খুন এবং লাশ গুমের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক এই দৃষ্টান্তমূলক রায় প্রদান করেছেন। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে সাজা কার্যকরের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন