জুন ২৩, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
বিগত আন্দোলন চলাকালীন সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার ও গণহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১ নম্বর আদালতের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোদক গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।আজ শুনানির শুরুতেই মামলার ওপেনিং স্টেটমেন্ট বা সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে।
প্রসিকিউশন দল জানিয়েছে যে সূচনা বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই মামলার প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিচারিক সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এর আগে গত ১৭ জুন এই বিশেষ সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল নতুন করে আজকের দিন পুনর্নির্ধারণ করেছিলেন। তারও আগে গত ৩০ এপ্রিল এই দুই রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর চূড়ান্ত আদেশ দিয়েছিলেন।
প্রসিকিউশনের আনা মোট তিনটি অভিযোগে বলা হয়েছে যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উসকানিমূলক ও উগ্র বক্তব্য দিয়েছিলেন কামরুল ও মেনন। আওয়ামী লীগ ও চৌদ্দ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা হিসেবে তারা নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে কারফিউ জারির পক্ষেও সরাসরি ভূমিকা রাখেন। তাদের ধারাবাহিক পরিকল্পনা ও উসকানিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় অন্তত ২৩ জন নিরস্ত্র মানুষ নিহত এবং আরও বহু আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন