রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলায় আরও ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলায় আরও ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও ছয়জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বুধবার ১ জুলাই ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সাক্ষীরা উপস্থিত হয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি প্রদান করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এই দুর্নীতি মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো।

প্রধান আসামি পলাতক থাকায় আদালতের পক্ষে আজ কোনো সাক্ষীকে জেরা করা সম্ভব হয়নি।সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আগামী ১৬ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম। আদালতে আজ যারা জবানবন্দি দিয়েছেন তারা হলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং নওগাঁর মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলাম। 

এছাড়া ভোলার চরফ্যাশনের সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম এবং বাড্ডার সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলমও আজ আদালতে নিজেদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। এর আগে গত ৮ মার্চ মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।

পরবর্তীতে গত ৩ মে একই আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক বাদি হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলার মূল বিবরণী অনুযায়ী বেনজীর আহমেদ তাঁর দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মোট ১২ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে দুদকের নিবিড় তদন্তে সাবেক এই পুলিশ প্রধানের নামে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকা, যা তিনি অবৈধ উৎস গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।