মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ন্যাম ভবনে বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো মরিয়মকে: পুলিশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

ন্যাম ভবনে বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো মরিয়মকে: পুলিশ

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে ন্যাম ভবনে সংসদ সদস্যের শয়নকক্ষের বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো বলে পুলিশ আদালতে জানিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এই তথ্য নথিবদ্ধ করেছেন। মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিকে হাজির করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন এবং ওই আবেদনে মরিয়মের মাঝে মাঝে বারান্দায় রাত কাটানোর তথ্যটি উল্লেখ করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, রিমান্ডে থাকা অবস্থায় সাবেক আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন যে মামলার বাদী তার আত্মীয় এবং সম্পর্কে তার ভাগ্নে হন। সেই হিসেবে নিহত তরুণী সম্পর্কে তার নাতনি ছিলেন। 

ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি বাদীর বাসায় রাত্রিযাপন করতেন এবং সেখান থেকেই সংসদের যাবতীয় কার্যক্রম তদারকি করতেন। সেই পারিবারিক পরিচয়ের সূত্রে তরুণীর সাথে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তিনি তাকে বিয়ে করেন। আবেদনে বলা হয়, গত ১৭ জুন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তী সময়ে নিজ এলাকায় কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়। বিয়ের পর দ্বিতীয় স্ত্রী ও মামলার দুই নম্বর আসামি প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামের সাথে ন্যাম ভবনের একই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন তিনি। তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে জানান, প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে ওই ফ্ল্যাটে বসবাসকালে তরুণীকে মাঝে মাঝে সংসদ সদস্যের শয়নকক্ষের পাশে থাকা বারান্দায় ঘুমাতে হতো।

জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে সম্পর্কিত আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সহায়তায় দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি নামিয়ে আনা হয়। 

তল্লাশিকালে কক্ষের ভেতর থেকে কয়েকটি চিরকুট জব্দ করে পুলিশ। ঘটনার পরদিনই নিহতের বাবা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি প্ররোচনা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলার পরপরই রাতে প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।