এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ আর পান্তা-ইলিশের ঐতিহ্য যেন একে অপরের পরিপূরক। প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পান্তা ভাতের বিশেষ কদর রয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে, পান্তা ভাত কেবল আমাদের সংস্কৃতির অংশ নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে বৈজ্ঞানিক পুষ্টিগুণ।
তবে উৎসবের আমেজে এই খাবার খাওয়ার আগে কিছু বিষয়ে সতর্ক না থাকলে লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি থাকে বলে তারা মনে করছেন।পান্তা ভাত খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা জানান যে এটি মূলত একটি ফারমেন্টেড বা গাঁজন করা খাবার।
ভাতে পানি দিয়ে দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখলে এতে প্রচুর পরিমাণে ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। এই উপকারী ব্যাকটেরিয়া শরীরের অন্ত্রে অবস্থান করে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়, যা সরাসরি হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে। ফারমেন্টেশনের ফলে সাধারণ ভাতের তুলনায় পান্তা ভাতে ভিটামিন বি-১২, আয়রন এবং ক্যালসিয়ামের পরিমাণও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার ফলে শরীর থেকে যে পানি ও খনিজ উপাদান বেরিয়ে যায়, তা দ্রুত পূরণ করতে পান্তা ভাতের বিকল্প নেই। এতে থাকা প্রচুর পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য বা অম্বলের মতো সমস্যা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি পান্তা ভাতের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে আরও মজুগত করে তোলে। এই পুষ্টিগুণগুলো পাওয়ার জন্য ভাত ভিজিয়ে রাখার পদ্ধতিটি সঠিক হওয়া প্রয়োজন।
পান্তা ভাত স্বাস্থ্যকর হলেও খাওয়ার আগে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা বাধ্যতামূলক। ভাত ভিজিয়ে রাখার সময় ব্যবহৃত পানি এবং পাত্র যদি পুরোপুরি পরিষ্কার না হয়, তবে সেখানে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বদলে ক্ষতিকর জীবাণু জন্ম নিতে পারে। সাধারণত ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা পান্তা ভাত স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো। তবে কোনোভাবেই ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ভাত ভিজিয়ে রাখা উচিত নয়, কারণ এতে খাবারটি পচে গিয়ে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক, আলসার বা পেটের অন্য কোনো জটিল সংক্রমণ রয়েছে, তাদের পান্তা ভাত খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ বজায় রাখতে হবে। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখের সময় রাস্তার ধারের বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি পান্তা ভাত খাওয়া থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। কারণ অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবার থেকে ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই উৎসবের আনন্দ অটুট রাখতে ঘরে তৈরি টাটকা এবং পরিচ্ছন্ন পান্তা ভাত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন