বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নতুন করে পরিবহন ভাড়া নির্ধারণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

নতুন করে পরিবহন ভাড়া নির্ধারণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সারা দেশে নতুন করে পরিবহন ভাড়া নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান। 

এ সময় তিনি পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দেন এবং ভাড়া বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।ব্রিফিংয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, বিশ্ববাজারের সাথে তাল মিলিয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে স্বাভাবিকভাবেই জিনিসপত্রের দাম এবং বাস ভাড়া বাড়বে। 

বিশেষ করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা এসি বাসের ভাড়া দুই থেকে তিনটি স্তরে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তবে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিবহন ভাড়া যেটুকু বাড়ানো হবে, তা যেন কোনোভাবেই অযৌক্তিক বা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়। 

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করা হলে সরকার তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং দায়ী পরিবহন মালিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।জ্বালানি তেলের বর্তমান সংকটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বাজারে এখন তেলের যে বিপুল চাহিদা দেখা যাচ্ছে, তা আসলে প্রকৃত চাহিদা নয়। অবৈধভাবে তেল মজুত করা এবং সীমান্ত দিয়ে পাচার হওয়ার কারণেই এই কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পক্ষে এই অন্যায্য ও অবৈধ চাহিদা মেটানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। 

জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ইতোমধ্যে দেশে এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি ‍‍`ফুয়েল পাস‍‍` এর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান। বৈশ্বিক এই অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা বাড়বে, যা বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেওয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।পরিবহন ও জ্বালানি ইস্যুর পাশাপাশি তিনি আগামী বছরের একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক উদ্যোগের কথাও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। 

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, সরকার আগামী বছর থেকে আঞ্চলিকভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের একটি নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই উৎসবকে একটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রূপ দিতে প্রতিবেশী দেশ ভারত, ভুটান এবং মিয়ানমারসহ বেশ কয়েকটি দেশের সাথে এরই মধ্যে সরকার যোগাযোগ শুরু করেছে। এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলা নববর্ষ উদযাপন এক নতুন মাত্রা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।