বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬,

আইওএস ২৭ আপডেট উন্মুক্ত iPhone এ যেসব পরিবর্তন এলো

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ১১:৩২ পিএম

আইওএস ২৭ আপডেট উন্মুক্ত iPhone এ যেসব পরিবর্তন এলো

ছবি: সংগৃহীত

আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নিজেদের অপারেটিং সিস্টেমের নতুন সংস্করণ ‍‍`আইওএস ২৭‍‍`-এর স্টেবল ভার্সন আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করেছে অ্যাপল। নতুন এই আপডেটে ইন্টারফেস, কন্ট্রোল সেন্টার, ক্যামেরা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। মডেলভেদে এই আপডেটের ফাইলের আকার ভিন্ন ভিন্ন হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স মডেলে আপডেটটির আকার ৯ দশমিক ৪৪ গিগাবাইট, অন্যদিকে আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্সে তা ১৩ দশমিক ৯৬ গিগাবাইট দেখা গেছে। 

আবার পুরোনো আইফোন ১৩ প্রো মডেলে এর আকার ৪ দশমিক ৬৮ গিগাবাইট এবং সাধারণ আইফোন ১৩-তে ৫ দশমিক ৬১ গিগাবাইট। লক স্ক্রিনের কাস্টমাইজেশনে যুক্ত হয়েছে নতুন বাটন, যার মাধ্যমে ঘড়ির আকার সহজেই ছোট করে নেওয়া যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ওয়ালপেপারের দৃশ্যপট বাড়ানোর বা এক্সটেন্ড করার সুবিধাও এসেছে এবং লক স্ক্রিন থেকে ডিফল্ট মিউজিক প্লেয়ার সরিয়ে ফেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। হোম স্ক্রিনে ফাইন্ড মাই, বুকস, সাফারি, ওয়েদার এবং সেটিংসসহ বেশ কিছু অ্যাপের আইকনে পরিবর্তন এসেছে এবং রিমোট কন্ট্রোলের জন্য যুক্ত হয়েছে আলাদা অ্যাপ।

হোম স্ক্রিন এডিট করার সময় এখন ওপরে ব্রাশ টুল দেখা যাবে এবং উইজেটগুলোকে সম্পূর্ণ ডিসপ্লে জুড়ে বড় করে রাখা যাবে। এডিটের সময় কোনো আইকন ভুল জায়গায় চলে গেলে ফোন ঝাঁকিয়ে (শেক টু আনডু) তা আগের অবস্থায় ফেরানো বা বারবার রিডু করা সম্ভব। স্ক্রিনশট নেওয়ার পর সরাসরি সেখানে আস্ক এবং সার্চ অপশন যুক্ত হয়েছে, যেখানে ব্রাশ টুলটি ফোল্ড করা অবস্থায় থাকে। পাওয়ার অফ স্ক্রিনে এসেছে ডার্ক থিম এবং জরুরি যোগাযোগের লেখাগুলো লোয়ার কেসে পরিবর্তন করা হয়েছে। 

কন্ট্রোল সেন্টারে এখন ডায়নামিক আইল্যান্ড থেকেই টাইমার সেট করা যায় এবং কানেক্টিভিটি ও ফোকাস অপশনগুলোকে ব্যবহারকারী নিজের পছন্দমতো ছোট বা বড় করে সাজাতে পারবেন। অন-ডিভাইস রিকভারি মোড যুক্ত হওয়ায় এখন কম্পিউটারের সাহায্য ছাড়াই ফোনের সফটওয়্যার সমস্যা চিহ্নিত, রিস্টোর বা ইরেজ করা যাবে। এ ছাড়া ওয়াই-ফাই সেটিংসে রাউটারের ধরন (যেমন ওয়াই-ফাই ৬) দেখা যাবে এবং নেটওয়ার্ক ধীরগতির হলে ওয়াই-ফাই কানেক্ট থাকা অবস্থাতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল ডেটা ব্যবহারের সুবিধা যুক্ত হয়েছে।

ক্যামেরা অ্যাপের নিচের দিকে এখন ফটো, ভিডিও এবং পোর্ট্রেট মোড একসাথে দেখা যাবে। ম্যাক্রো মোডের আইকন এবং অ্যাপারচার অপশনের জায়গা পরিবর্তন করে আরও গোছানো হয়েছে এবং ম্যাক্রো মোড চালু করলে একটি হলুদ বৃত্তের নির্দেশক দেখা যাবে। ব্যবহারকারী চাইলে ক্যামেরার ওপরের দিকের এক্সপোজার বা ফরম্যাট কন্ট্রোলগুলো টেনে এনে নিজের মতো কাস্টমাইজ করতে পারবেন। ভিডিও মোডে রেজল্যুশন পরিবর্তনের কাজটি এখন এক ক্লিকেই (এইচডি থেকে ফোরকে) করা যাচ্ছে। ফটোজ অ্যাপে কপি, ডুপ্লিকেট এবং হাইড করার অপশনগুলোকে থ্রি-ডট মেনুর নিচে আলাদা করা হয়েছে এবং নতুন অ্যালবাম তৈরির সহজ অপশন যুক্ত হয়েছে।

আইমেসেজে এখন ড্রাফট মেসেজগুলো আলাদা ফোল্ডারে জমা থাকবে এবং মার্কআপ ব্যবহার করে হাতে এঁকে বার্তা পাঠানো যাবে। মেসেজের ভেতর ক্যামেরার ক্লোজ বাটনটি এখন ওপরে না থেকে সহজে আঙুল পৌঁছানোর জন্য নিচের দিকে দেওয়া হয়েছে। ফোন কলে কথা বলার সময় অপর প্রান্ত থেকে কোনো গোপন নম্বর বা ওটিপি বলা হলে তা সরাসরি টেক্সট আকারে স্ক্রিনে ভেসে উঠবে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।

সাফারি ব্রাউজারে ট্যাব এবং মেনু অপশনকে আরও আধুনিক করে লিকুইড গ্লাস ডিজাইনে সাজানো হয়েছে। নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের জন্য ‍‍`নোটিফাই মি‍‍` অপশন যুক্ত হয়েছে এবং সিরি চালু থাকলে কাস্টম এক্সটেনশন ব্যবহারের সুযোগ মিলবে। আগের সংস্করণের তুলনায় নতুন এই আইওএস ২৭ অনেক বেশি দ্রুত এবং রেসপন্সিভভাবে কাজ করছে। অ্যাপ খোলা, এয়ারড্রপ ব্যবহার এবং মাল্টিটাস্কিংয়ে কোনো ধীরগতি দেখা যায়নি এবং ব্যাটারি ব্যাকআপেও চমৎকার ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে।

আইফোন ১১ থেকে শুরু করে সর্বশেষ আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স পর্যন্ত সব মডেলেই সাধারণ ফিচারগুলো কাজ করবে। তবে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশেষ ফিচারগুলো পেতে ব্যবহারকারীদের ওয়েটলিস্টে আবেদন করতে হবে। এই উন্নত এআই ফিচারগুলো শুধুমাত্র আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স এবং এর পরের আধুনিক মডেলগুলোতে সমর্থন করবে বলে জানানো হয়েছে।