এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আজ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর প্রথম দিন। বাঙালির এই প্রাণের উৎসব উদযাপনে খাবারের পাতে ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকা চাই। পহেলা বৈশাখের এই বিশেষ দিনে বাঙালির খাদ্যতালিকায় হরেক রকম ভর্তার আইটেম প্রাধান্য পায়। তবে স্বাদ আর স্বাস্থ্যের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটাতে কালোজিরার ভর্তা হতে পারে সেরা পছন্দ। পুষ্টিগুণে অনন্য এই বীজটি যুগ যুগ ধরে মহৌষধ হিসেবে সমাদৃত হয়ে আসছে।
নতুন বছরের শুরু থেকেই নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ার অভ্যাস করা শরীর ও মন উভয়ের জন্যই অত্যন্ত উপকারী।প্রকৃতির এক বিস্ময়কর দান কালোজিরাকে অনেকেই মৃত্যু ছাড়া সব রোগের ওষুধ বলে মনে করেন।
পুষ্টিবিদদের মতে, কালোজিরায় রয়েছে নাইজেলোন, থাইমোকিনোন এবং লিনোলিক অ্যাসিডের মতো শক্তিশালী উপাদান। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফেট এবং সেলেনিয়াম পাওয়া যায়। ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি এবং ফসফরাসের উপস্থিতির কারণে এটি শরীরের জন্য একটি সুপারফুড হিসেবে কাজ করে।
তবে এই পুষ্টিগুণ আরও বহুগুণ বেড়ে যায় যদি ভর্তা তৈরির সময় নির্দিষ্ট কিছু উপকরণ সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করা হয়।কালোজিরার ভর্তাকে আরও সুস্বাদু ও পুষ্টিকর করতে এতে সাতটি বিশেষ উপকরণ মেশানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই উপকরণগুলো হলো পেঁয়াজ, রসুন, সবুজ ও লাল কাঁচামরিচ, পোড়া শুকনো মরিচ, সামান্য গোলমরিচ গুঁড়া, খাঁটি সরিষার তেল এবং পরিমাণমতো লবণ।
সঠিক পদ্ধতিতে এই ভর্তা তৈরি করতে হলে প্রথমে কালোজিরা ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি ফ্রাইপ্যানে সরিষার তেল বাদে বাকি সব উপকরণ হালকা করে ভেজে নিতে হবে। উপকরণের ঘ্রাণ বের হলে শিলপাটায় সরিষার তেল ছাড়া সবকিছু একসাথে বেটে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। সবশেষে গরম ফ্রাইপ্যানে সরিষার তেল দিয়ে সেই পেস্ট মিনিট দুয়েক নেড়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে স্বাস্থ্যকর কালোজিরা ভর্তা।
নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ার বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এটি আমাদের হজমপ্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং পেটে গ্যাস বা ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। খাদ্য থেকে পুষ্টির শোষণ ক্ষমতা বাড়াতেও কালোজিরার ভূমিকা অপরিসীম। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি দুর্দান্ত কাজ করে। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সর্দি-কাশি থেকে আরাম পেতে কালোজিরা খুব কার্যকরী। ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও এর জুড়ি মেলা ভার।
চিকিৎসকদের মতে, কালোজিরা হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি ক্যানসার প্রতিরোধেও সহায়তা করতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান শরীরের বিভিন্ন সংক্রমণ ও ছত্রাকের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এমনকি মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও কালোজিরা ভূমিকা রাখে। এটি বিষণ্নতা এবং উদ্বেগের সমস্যা দূর করে মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। তাই নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই বাঙালির চিরায়ত এই কালোজিরা ভর্তাকে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন