রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

মজলুম জননেতা ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ১০:৩২ এএম

মজলুম জননেতা ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ সোমবার, ১৭ নভেম্বর। বাংলাদেশের শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের এই দিনে তিনি ঢাকার পিজি হাসপাতালে, যা বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

দিনটি উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার মাজারে আজ সকাল থেকেই ঢল নেমেছে সর্বস্তরের মানুষের। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই কিংবদন্তি নেতাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।

তার জন্মভূমি সিরাজগঞ্জ এবং কর্মস্থল টাঙ্গাইলসহ দেশব্যাপী নানা আয়োজন গ্রহণ করা হয়েছে।মওলানা ভাসানীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল ব্রিটিশ শাসনামলে। ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি তার জীবনের সিংহভাগ কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। এখান থেকেই তিনি আজীবন সাধারণ মানুষ, কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন।

১৯১১ সালে রাজনীতিতে যোগদানের পর তিনি খিলাফত আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের স্বরাজ আন্দোলনে অংশ নেন। তিনি আসাম ও পূর্ব বাংলায় জমিদার ও সুদখোর মহাজনবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন, যার জন্য সাধারণ মানুষ তাকে 'মজলুম জননেতা' উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করে এর প্রথম সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন। এই সম্মেলনে তিনি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ বিখ্যাত ‘আসসালামু আলাইকুম’ উচ্চারণ করেন, যা পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করেছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন এবং আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর তিনি পল্টনের জনসভায় প্রথম স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের ডাক দেন।

স্বাধীনতার পরও তিনি গণমানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন। ১৯৭৪ সালের দেশব্যাপী দুর্ভিক্ষের সময় তিনি ভুখা মিছিলের নেতৃত্ব দেন, যা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার জীবনের শেষ এবং অন্যতম বৃহৎ আন্দোলন ছিল ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ। গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে এই লংমার্চের মাধ্যমে তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। সেই বছরেরই ১৭ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।