ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ১০:২৫ এএম
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিতব্য ‘গণভোট’ নিয়ে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা বিভ্রান্তি এড়াতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে তিনটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন বা গণভোট ইস্যুতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা এবং ভোটগ্রহণের দিনের কার্যক্রম সংক্রান্ত বিধিবিধান পরিষ্কার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজের দপ্তর থেকে গত বৃহস্পতিবার এই আইনি ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া তিনটি প্রধান বিষয় হলো—গণভোটের প্রচার কার্যক্রম কত সময় পর্যন্ত চালানো যাবে, ভোটগ্রহণের দিন ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে আলাদা নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন করা যাবে কি না এবং গণভোটের জন্য পৃথক পোলিং এজেন্ট নিয়োগের সুযোগ আছে কি না।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন যে কমিশন ইতিমধ্যে এই বিষয়গুলোর আইনি ব্যাখ্যা সরকারকে সরবরাহ করেছে। ইসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের মতো গণভোটের প্রচারও ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার পর বন্ধ করতে হবে। এছাড়া ভোটগ্রহণের দিন পৃথক কোনো ক্যাম্প স্থাপনের সুযোগ নেই এবং সংসদ নির্বাচনের জন্য নিযুক্ত পোলিং এজেন্টরাই গণভোটের ব্যালট বাক্স ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন; আলাদা কোনো এজেন্টের প্রয়োজন পড়বে না।
ইসি আরও স্পষ্ট করেছে যে ‘গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫’ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করতে পারলেও সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না। অধ্যাপক আলী রীয়াজ এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে এই তথ্যগুলো যাচাই করা হয়েছে যাতে ভোটগ্রহণের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নিয়মের ব্যত্যয় না ঘটে। উল্লেখ্য, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়া বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা, যা সফল করতে সরকার ও ইসি নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন