ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ ঘিরে আজ শুক্রবার এক নজিরবিহীন উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের ঘেরাও কর্মসূচি এবং অন্যদিকে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে ছাত্রদের অবস্থান কর্মসূচি—এই দ্বিমুখী আন্দোলনের কারণে শাহবাগ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও কাকরাইল এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যমুনার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পাশাপাশি ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ শেষে সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে হাজার হাজার কর্মচারী যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন।
বেলা ১১টার দিকে মিছিলটি শাহবাগ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথরোধ করে। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই অনেক কর্মচারী যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন। আন্দোলনরত কর্মচারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ১ জানুয়ারির মধ্যে পে-স্কেল কার্যকর না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন।এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই যমুনার সামনে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ছাত্ররা।
তারা গত ডিসেম্বরে নিহত শরিফ ওসমান বিন হাদী হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছেন। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এই বিক্ষোভগুলো বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন