শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে নারীর মৃত্যু, জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে নারীর মৃত্যু, জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ছবি-দিনাজপুর টিভি

বাংলাদেশে আবারও নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং এতে আক্রান্ত হয়ে উত্তরাঞ্চলের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ডব্লিউএইচও তাদের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ওই নারী ভাইরাসে আক্রান্ত হন। জানা গেছে মৃত নারীর বয়স ছিল ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং তিনি অসুস্থ হওয়ার আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। 

গত ২১ জানুয়ারি তার শরীরে প্রথম জ্বর ও মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরবর্তী সময়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তার মধ্যে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ ও খিঁচুনির মতো লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং অসুস্থ হওয়ার এক সপ্তাহ পর তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় তার শরীরে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে ওই নারীর সংস্পর্শে আসা ৩৫ জন ব্যক্তিকে এরই মধ্যে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তবে স্বস্তির খবর হলো তাদের প্রত্যেকের পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে এবং নতুন করে আর কেউ আক্রান্ত হননি। 

সাধারণত বাদুড়ের লালা বা মূত্র দ্বারা দূষিত কাঁচা খেজুরের রস কিংবা ফলমূলের মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে এই ভাইরাসটি খুব সহজে একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায় না বলে এটি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম থাকে।এদিকে বাংলাদেশে এই মৃত্যুর ঘটনার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও নিপাহ সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। 

এর ফলে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানে বিমানবন্দরগুলোতে আগত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও তাপমাত্রা মাপার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত কোনো দেশ বা অঞ্চলের ওপর আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজনীয়তা দেখছে না। বাংলাদেশে বর্তমানে চারটি বিশেষায়িত পরীক্ষাগারে এই ভাইরাস শনাক্তের ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে এই ভাইরাসের জন্য এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো স্বীকৃত ওষুধ বা কার্যকর টিকা উদ্ভাবিত হয়নি। তাই সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কাঁচা খেজুরের রস পান না করা এবং আংশিক খাওয়া ফল বর্জন করাই হচ্ছে প্রধান প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।