শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

‘ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল নিতে বাধা নেই’

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

‘ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল নিতে বাধা নেই’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিধি-নিষেধ নিয়ে তৈরি হওয়া অস্পষ্টতা দূর করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নির্বাচনের দিন দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে কোনো ধরনের বাধা নেই। 

সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের জন্য তৈরি করা বিশেষ বুথ পরিদর্শনকালে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন যে সংবাদ সংগ্রহের কাজে গতিশীলতা বজায় রাখতে সাংবাদিকদের এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা দ্রুততম সময়ে কেন্দ্র থেকে সর্বশেষ তথ্য সরবরাহ করতে পারেন।

নির্বাচন কমিশনের এই বক্তব্য আসার আগে বিষয়টি নিয়ে জনমনে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এর মূল কারণ ছিল গত রবিবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা। 

সেই চিঠিতে বলা হয়েছিল যে ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুইজন আনসার সদস্য ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। এই নির্দেশনা প্রকাশের পর বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছিল। তাদের মতে ভোটকেন্দ্রে মোবাইলের ওপর এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলে অবাধ তথ্য প্রবাহ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে আজকের বক্তব্যে ইসি সানাউল্লাহ স্পষ্ট করলেন যে ওই সাধারণ নিষেধাজ্ঞা সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ চলবে। এই মহাযজ্ঞের সংবাদ সরাসরি সম্প্রচার এবং পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে নির্বাচন কমিশন থেকে বিশেষ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে যে ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারলেও ভোটকক্ষে গিয়ে কোনো গোপনীয়তা ভঙ্গ বা ভোট প্রদানের ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। সামগ্রিকভাবে একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে তথ্য প্রবাহকে গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান কমিশন।