ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ১০:১৩ এএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন ভবনের খোলা চত্বরে বিশাল ডিজিটাল স্ক্রিন এবং সাংবাদিকদের জন্য ৮৭টি বুথ স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ। কমিশন জানিয়েছে, এবার ফলাফল আদান-প্রদানে কোনো ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করা হবে না; বরং সম্পূর্ণ ইন্টারনেটবিহীন একটি `ক্লোজড ভিপিএন` নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করা হবে।
ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানিয়েছেন, তিন স্তরের যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে, ফলে এটি হ্যাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইএমএস সফটওয়্যারের বিশেষ মডিউল আরএমএসের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের তথ্য সরাসরি প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছাবে।
তবে কমিশনের এই আধুনিক প্রস্তুতি সত্ত্বেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদার ইসির এই প্রক্রিয়াকে `আত্মঘাতী` বলে অভিহিত করেছেন।
তার মতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ফলাফল সরাসরি ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে নেওয়ার কথা থাকলেও কমিশন সেটি রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে বিতর্কিত করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ইন্টারনেটবিহীন ব্যবস্থার কথা বলা হলেও অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে মানবীয় হস্তক্ষেপ বা ত্রুটির ঝুঁকি থেকে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ভোট পড়ার হার জানানো হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করার পর তা কেন্দ্রীয় ডেটা সেন্টারে আসবে এবং কমিশন প্রতিটি আসনের অন্তত পাঁচটি কেন্দ্রের ফল হাতে পেলেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ শুরু করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকির জন্য তিন সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় টিম গঠন করা হয়েছে। প্রযুক্তিগতভাবে ইসি একে নিশ্ছিদ্র দাবি করলেও নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগের কারণে ফলাফল ব্যবস্থাপনার বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন