শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

দেশের ২৪ হাজার ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ: আইজিপি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

দেশের ২৪ হাজার ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ: আইজিপি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন। আইজিপি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে এবারের নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। 

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ প্রশাসন সারা দেশে প্রাথমিক জরিপ চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা তৈরি করেছে। আইজিপির দেওয়া তথ্যমতে সারা দেশে প্রাথমিকভাবে আট হাজার ৭৭০টি ভোটকেন্দ্রকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। 

সব মিলিয়ে প্রায় ২৪ হাজার ভোটকেন্দ্রকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।আইজিপি বাহারুল আলম জানান যে এই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। 

বিশেষ করে এই কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের শরীরে বডিক্যাম সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে রেকর্ড করা যায় এবং ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে যদিও এই ঝুঁকি নির্ধারণ একটি প্রাথমিক প্রক্রিয়া এবং এটি পরিবর্তনশীল হতে পারে তবুও পুলিশ প্রশাসন কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা তিনটি স্তরে বিন্যস্ত থাকবে যার মধ্যে কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা, ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল টিম এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিশেষ বাহিনী মাঠে থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার মতো শক্তি বর্তমানে কারো নেই। তিনি স্বীকার করেন যে বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সহিংসতা ঘটতে পারে কিন্তু তা নির্বাচনের মূল স্রোতকে ব্যাহত করতে পারবে না। পুলিশ প্রধানের এই বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সারা দেশের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।