ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সুযোগ-সুবিধা পরিহার করে নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে দাপ্তরিক কাজ ও চলাফেরা শুরু করেছেন। বুধবার থেকে শুরু হওয়া তাঁর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে তিনি সরকারি গাড়ির পরিবর্তে নিজের ব্যক্তিগত সাদা টয়োটা গাড়িটি ব্যবহার করেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারি গাড়ি, জ্বালানি তেল এবং চালকের কোনো খরচ তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে গ্রহণ করবেন না। এমনকি প্রথম দিনের কর্মসূচিতে সাভার স্মৃতিসৌধ এবং শেরে বাংলা নগরে যাওয়ার সময়ও তিনি নিজের ক্রয় করা জ্বালানি ও নিজস্ব চালক ব্যবহার করেছেন।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিরাপত্তায় ব্যবহৃত গাড়িবহরের সংখ্যাও নাটকীয়ভাবে কমিয়ে এনেছেন। আগে যেখানে ১৩ থেকে ১৪টি গাড়ি প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে থাকত, এখন সেটি কমিয়ে মাত্র চারটি করা হয়েছে।
বুধবারের কর্মসূচিতে তিনি পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহার করেন। তবে রাষ্ট্রীয় কোনো আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান বা বিদেশি অতিথিদের সফরের সময় গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিধান বজায় রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর সড়কে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সময় রাস্তার দুই ধারে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকার যে প্রথা দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে, সেটিও বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।জনভোগান্তি নিরসনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এখন থেকে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে মন্ত্রীদের সচিবালয় থেকে তেজগাঁও এলাকায় যাতায়াতের প্রয়োজন হবে না এবং ভিআইপি মুভমেন্টের কারণে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় যানজটের মুখে পড়তে হবে না। উল্লেখ্য যে, প্রথম দিনের কর্মসূচিতে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি সচিবালয়ে গিয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। তাঁর এমন উদ্যোগ প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচন ও জনবান্ধব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন