সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে এস জয়শঙ্করের অভিনন্দন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে এস জয়শঙ্করের অভিনন্দন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বাংলাদেশের নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। বুধবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর অফিশিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তায় এই অভিনন্দন জানান। বার্তায় জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় তিনি ড. খলিলুর রহমানকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছেন। 

একইসঙ্গে দুই দেশের পারস্পরিক অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে একযোগে কাজ করার বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ফুটে উঠেছে জয়শঙ্করের এই বার্তায়।

ড. খলিলুর রহমান একজন পেশাদার কূটনীতিক এবং বিশেষজ্ঞ হিসেবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তিত্ব। মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

 শিক্ষাজীবনেও তিনি অনন্য মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করার গৌরব রয়েছে তাঁর। এরপর ১৯৭৯ সালে তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর বর্ণাঢ্য কূটনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত টাফটস ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও কূটনীতিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

কূটনৈতিক কর্মজীবনে ড. খলিলুর রহমান দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে তাঁকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বদলি করা হয়। 

কর্মদক্ষতার ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালে তিনি জেনেভায় জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনে বা আঙ্কটাডে বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘ সচিবালয়ে যোগদান করেন। তাঁর এই দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান জোরালো করতে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখবেন বলে বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করছেন।