শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

‘সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া চাঁদা নয়, বাধ্য করা হলে চাঁদা’

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

‘সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া চাঁদা নয়, বাধ্য করা হলে চাঁদা’

সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী

সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে মালিক বা শ্রমিক সমিতির সমঝোতার ভিত্তিতে আদায় করা অর্থকে চাঁদাবাজি হিসেবে দেখতে নারাজ সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তার মতে, কাউকে টাকা দিতে বাধ্য করা হলেই কেবল সেটিকে চাঁদা বলা যায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

পরিবহন খাতে অর্থ আদায়ের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, মালিক ও শ্রমিক সমিতিগুলো নিজেদের কল্যাণে ব্যয় করার জন্য নির্দিষ্ট হারে এই অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। 

এটি পরিবহন খাতে একটি অলিখিত নিয়মের মতো কাজ করে। স্বেচ্ছায় বা সমঝোতার মাধ্যমে দেওয়া অর্থকে তিনি চাঁদাবাজি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে রাজি নন। তবে এই সংগৃহীত অর্থ আসলেই শ্রমিক বা মালিকদের কল্যাণে কতটুকু ব্যবহার করা হয়, তা নিয়ে জনমনে বিতর্ক থাকতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

রাজনৈতিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম জানান, ক্ষমতায় থাকা দলের শ্রমিক সংগঠনগুলোর মাঠে স্বাভাবিকভাবেই একটি আধিপত্য থাকে। শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ অন্যান্য সংস্থাগুলোও এই প্রভাবের বলয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে অর্থ সংগ্রহ করে। যেহেতু এই প্রক্রিয়াটি পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়, তাই সরকারের তরফ থেকে এটিকে সরাসরি চাঁদাবাজি হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ থাকে না।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এলাকায় বাইরে থেকে চাপ প্রয়োগ করে চাঁদা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তবে পরিবহন মালিক বা শ্রমিকরা যদি নিজেদের মধ্যে কোনো সমঝোতা করে অর্থ সংগ্রহ করেন, সে ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ শ্রমিকরা আর্থিকভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন কি না এবং সংগৃহীত অর্থের কোনো ধরনের অপব্যবহার হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন যোগাযোগ মন্ত্রী।