শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৫:১০ এএম

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি প্রথমে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। 

এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং তারা কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন।রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন।সাংবিধানিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিন বাহিনীর প্রধানগণ ভাষা শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন করেন। 

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং বিদেশি সংস্থার প্রধানরা পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হলে শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সময় নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষায় থাকা হাজারো মানুষ হাতে ফুল ও শোকের ব্যানার নিয়ে ধীরলয়ে শহীদ মিনারের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবারের একুশে ফেব্রুয়ারি একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আমেজে ও মুক্ত পরিবেশে পালিত হচ্ছে। তিনি এটিকে অবরুদ্ধ দশা থেকে একুশের মুক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে গঠিত নতুন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি। তিনি ইনসাফভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, একুশের অনুপ্রেরণা নিয়ে নতুন সরকার দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করতে সক্ষম হবে।