ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১১:০৮ এএম
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। শনিবার ভোর ৬টায় তিনি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তার সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুবসহ হাইকোর্ট বিভাগের অন্যান্য বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধান বিচারপতি এবং বিচারপতিরা শহিদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের এই পর্যায়ক্রমিক কর্মসূচিতে এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর ১২টা ৮ মিনিটে জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ভোরে সাধারণ মানুষের প্রবেশের আগে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও বাহিনী প্রধানদের শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের পরেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিন বাহিনীর পক্ষে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনও শহিদদের স্মরণে ফুল দেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও একুশের সকালে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এর মধ্যে এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন উল্লেখযোগ্য। ছাত্রদলের পাশাপাশি ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীরাও শহিদ মিনারে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জুলাই মঞ্চ ও বন্ধুসভার মতো সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ভোর থেকেই শহিদ মিনার এলাকায় সাধারণ মানুষের ঢল নামে, যারা সারিবদ্ধভাবে ভাষা শহিদদের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন