এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে বড় ধরনের কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি কার্যক্রমের জ্বালানি খরচেও ৩০ শতাংশ কাটছাঁট করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, শুধু গাড়ি ঋণ নয়, সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে সব ধরনের সরকারি অর্থায়নে বৈদেশিক প্রশিক্ষণও স্থগিত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরে তা ৫০ শতাংশ কমানোর কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন খরচ ৫০ শতাংশ, কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ এবং কর্মকর্তাদের ভ্রমণ সংক্রান্ত ব্যয় ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।প্রচলিত প্রশাসনিক নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারের উপসচিব ও তার ওপরের পদের কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা পেয়ে আসছিলেন।
প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে এই সুবিধা প্রদান করা হতো। এই সুবিধার আওতায় শুধু ঋণই নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে নগদ ভাতাও পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া নিয়মানুযায়ী এই গাড়ির ওপর প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধাও প্রযোজ্য ছিল।
তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের ব্যয় কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই বিশেষ সুবিধাগুলোতে আপাতত স্থগিতাদেশ দেওয়া হলো। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সব স্তরে মিতব্যয়ী হওয়ার এই বার্তাটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নিজেই দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে এবং জরুরি প্রয়োজনে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত হবে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন