বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

মঙ্গল বা আনন্দ নয়, এবার হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম

মঙ্গল বা আনন্দ নয়, এবার হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

আসন্ন পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার নাম নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটাতে বড় ধরণের পরিবর্তন এনেছে সরকার। এবার থেকে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের আনুষ্ঠানিক নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। আজ রোববার ৫ এপ্রিল সকালে সচিবালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। 

তিনি জানান যে আনন্দ বা মঙ্গল—এই দুই নাম নিয়ে যে ধরণের বিতর্ক ও সামাজিক বিভাজন তৈরি হচ্ছে তা এড়াতেই সরকার এই মধ্যপন্থা বেছে নিয়েছে।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য আয়োজিত শোভাযাত্রার নাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরণের মতভেদ তৈরি হয়েছে যা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন সরকার কোনো ধরণের সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক বিভাজন চায় না বরং বৈচিত্র্যের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। 

এই প্রেক্ষাপটেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে এবারের পহেলা বৈশাখে শোভাযাত্রাটি কোনো বিশেষ বিশেষণ ছাড়াই ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত হবে এবং এখন থেকে প্রতি বছর এই একই নাম বহাল থাকবে।প্রতি বছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখ উদযাপনে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। তিনি বলেন শোভাযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পাশাপাশি বিএনসিসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী মোতায়েন থাকবে। 

উৎসবকে ঘিরে যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ১৯৮৯ সালে যখন প্রথম এই শোভাযাত্রার আয়োজন করে তখন এর নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় এর প্রেক্ষাপট বদলে যায় এবং অশুভ শক্তির বিনাশ কামনায় এর নাম দেওয়া হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। 

২০১৬ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে আয়োজনটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। তবে গত বছর বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপনের সময় আয়োজকরা হঠাৎ করেই ‘মঙ্গল’ শব্দের পরিবর্তে ‘আনন্দ’ নাম ব্যবহার করলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের পর বর্তমান সরকার এখন তৃতীয় একটি নাম চূড়ান্ত করল যা সব মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে নামের এই পরিবর্তন উৎসবের মূল চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করবে না বরং আয়োজনের সার্বজনীনতাকে আরও দৃঢ় করবে। তবে এক পক্ষ মনে করছে মঙ্গল শোভাযাত্রা যেহেতু ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নাম তাই এটি পরিবর্তন করার প্রয়োজন ছিল না। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ মনে করছে বৈশাখী শোভাযাত্রা নামটি উৎসবের আদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। সরকার এই দুই পক্ষের মতামতের সমন্বয় ঘটিয়েই নতুন এই নামকরণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে এই নতুন নামেই রাজপথে নামবে বাংলার হাজারো মানুষ। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে বিভেদ ভুলে উৎসবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী।