এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন যে নির্বাচনি ইশতেহারে নারী ও শিশু সুরক্ষার বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ। আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
‘নির্বাচনি ইশতেহারে নারী ও শিশু সুরক্ষার সুপারিশ: রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা দিক উঠে আসে।
মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করবে।
তিনি জানান বর্তমান সরকারের কাছে নারী ও শিশু সুরক্ষা একটি অগ্রাধিকারপূর্ণ বিষয় এবং এটি কেবল কাগজের প্রতিশ্রুতি নয় বরং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু হয়েছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিশুদের সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।অধ্যাপক জাহিদ হোসেন দেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ হিসেবে নারী ও শিশুদের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন এ দেশে ৫১ শতাংশ নারী এবং ৩৩ শতাংশ শিশু আমাদের সমাজের মূল সম্পদ।
তাদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ইতিমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রোগ্রামসহ বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে নারী প্রধান পরিবারগুলো সরাসরি রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন যে বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনে যে পরিমাণ কঠোর আইন রয়েছে তা অনেক সভ্য দেশেও দেখা যায় না।
তবে তিনি কেবল আইনের ওপর নির্ভর না করে পারিবারিক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সমাজে মাদকাসক্ত যুবকদের একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন তারা সমাজের জন্য একটি রোগের মতো। তাদের কারণে নানা অপরাধমূলক কাজ সংগঠিত হচ্ছে যার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রী জানান সরকার ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী আইন প্রয়োগ এবং এনজিওগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে। অনুষ্ঠানে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা শিশু বিবাহ প্রতিরোধ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বন্ধ এবং মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন। মন্ত্রী এই সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং সব রাজনৈতিক দলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ডাক্তার তাসনিম জারা এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সাগুফতা বুশরা মিশমাসহ আরও অনেকে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন এবং নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন