এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) সম্পূর্ণ পেশাদার ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বিসিবি কোনো পরিবহনের স্ট্যান্ড নয় যে এখানে ‘বাপের দোয়া’ বা ‘মায়ের দোয়া’ মার্কা পকেট কমিটি চলবে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্ষমতার অপব্যবহার করে গায়ের জোরে সারা বাংলাদেশের জেলা কমিটিগুলোকে প্রভাবিত করেছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংসদ অধিবেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট একটি বিলের ওপর আলোচনা চলাকালে এই মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সেই সময় হাইকোর্টের আদেশকে তোয়াক্কা না করে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে একতরফাভাবে ক্রিকেট বোর্ড দখল করা হয়েছিল।
বর্তমান সরকারের অধীনে গঠিত তদন্ত কমিটি বিসিবিতে জঘন্য সব অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই অবৈধ পকেট কমিটি ভেঙে দিয়ে এখন তামিম ইকবালের মতো বিশ্ববরেণ্য ক্রিকেটারদের হাতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাদের কাছে দেশের ক্রিকেট নিরাপদ।একই অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বিসিবির কমিটি ভেঙে অ্যাডহক কমিটি করার বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করেন।
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিসিবি ও মানবাধিকার কমিশনসহ বিগত সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে পাল্টা সমালোচনা করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় নয়, বরং দেশের ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিতে কাজ করছে। পেশিশক্তি খাটিয়ে বিসিবি দখলের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ক্রিকেট ইস্যুর পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়েও সংসদে বিস্তারিত কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আওয়ামী লীগ ও তাদের পেটুয়া বাহিনীকে হানাদারদের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, জুলাই বিপ্লবের বীরদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়া বর্তমান সরকারের পবিত্র ইমানি দায়িত্ব। এই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংসদ আজ ঐতিহাসিক বিল পাস করেছে। এ ছাড়া মানবাধিকার কমিশনকে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী জানান, গুমের বিচার সরাসরি আইসিটি অ্যাক্টে করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যেখানে অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অর্থনৈতিক ও শিক্ষা খাতের অস্থিরতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে যারা বাংলাদেশ ব্যাংকে ঢুকে অর্থনৈতিক নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দখলদারিত্ব চালিয়েছে, তাদের আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন